ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) অপারেটরদের আর্থিক সুবিধা দিতে কলহার ‘বেআইনি পরিবর্তন’ করে রাষ্ট্রকে প্রায় ৯ হাজার ১০৭ কোটি টাকা ক্ষতি করার অভিযোগে বিটিআরসির সাবেক তিন চেয়ারম্যানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলা দায়ের করা হয় বলে জানান সংস্থার উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম। মামলাটি করেন দুদকের পরিচালক মো. জালাল উদ্দীন আহমেদ।
অভিযুক্ত তিন সাবেক চেয়ারম্যান হলেন—
সুনীল কান্তি বোস
শাহজাহান মাহমুদ
মো. জহুরুল হক (যিনি পরে দুদকের কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০২৪ সালের অক্টোবরে পদত্যাগ করেন)
অন্য আসামিরা:
অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আহসান হাবিব খান, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান
মো. রেজাউল কাদের, সাবেক কমিশনার
মো. আমিনুল হাসান, সাবেক কমিশনার
মামলার এজাহারে বলা হয়—
২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিটিআরসির সাবেক কমিশনাররা সরকারের অনুমোদন ছাড়া আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের টার্মিনেশন রেট এবং রাজস্ব ভাগাভাগির কাঠামো পরিবর্তন করে আইজিডব্লিউ অপারেটরদের আর্থিকভাবে উপকৃত করেন।
২০১৪–১৫ সালে পরীক্ষামূলকভাবে টার্মিনেশন রেট ছিল—
০.০৩ ডলার,
সরকারের শেয়ার ৫১.৭৫%,
আইজিডব্লিউ শেয়ার ১৩.২৫%।
পরীক্ষামূলক সময় শেষ হলেও তারা বেআইনিভাবে একই হার আরও ২৮ মাস বহাল রাখেন, যেখানে—
টার্মিনেশন রেট কমিয়ে ০.০১৫ ডলার,
সরকারের শেয়ার ৪০%,
আইজিডব্লিউ শেয়ার ২০% করা হয়।
দুদকের মতে, এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য ছিল আইজিডব্লিউ অপারেটরদের আর্থিকভাবে উপকৃত করা—যা ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের শামিল।
দুদক এজাহারে ক্ষতির বিস্তারিত তুলে ধরে—
রাজস্ব ভাগাভাগির হার কমায়: ৩৮৩.৭৩ কোটি টাকা
কল রেট কমায়: ২,৯৪১.৯৯ কোটি টাকা
বিদেশি মুদ্রা দেশে না আসায়: ৭.২১ কোটি ডলার (৫,৬৮৫.০১ কোটি টাকা)
মোট ক্ষতি: প্রায় ৯,১০৭ কোটি টাকা।
মামলাটি বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।