
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. কবিরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামান এ আদেশ দেন।
ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে কবিরকে আদালতে হাজির করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মামলার রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন ডিবির মতিঝিল জোনাল টিমের পরিদর্শক ফয়সাল আহম্মেদ। শুনানি শেষে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. কাইয়ুম হোসেন।
রিমান্ড আবেদনে গোয়েন্দা পুলিশ উল্লেখ করে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা, নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং প্রার্থীদের মনোবল দুর্বল করার উদ্দেশ্যে ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই কবির আত্মগোপনে চলে যান। তিনি এ মামলার এজাহারনামীয় আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল দাউদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে র্যাব জানায়, কবির রাজধানীর আদাবর থানা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের একটি ওয়ার্ড শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি আদাবরের নবোদয় হাউজিং সোসাইটিতে বসবাস করেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার সদর থানার বড় বিঘাই গ্রামে। একই জেলার বাসিন্দা ফয়সাল করিম।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, গত ৫ ডিসেম্বর কবির ফয়সাল করিমের সঙ্গে বাংলামোটরে ওসমান হাদির প্রতিষ্ঠিত ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে যান। প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর পর তিনি তা স্বীকার করেন।
উল্লেখ্য, রোববার দিবাগত রাতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী এলাকায় একটি ইটভাটার ছনের ঘর থেকে কবিরকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরদিন তাঁকে পল্টন থানা পুলিশের মাধ্যমে মামলার তদন্তকারী সংস্থা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়
Leave a Reply