দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া আবারও সংঘাতে জড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ ঘিরে কম্বোডিয়ার বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে থাই বিমানবাহিনী। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে উভয় দেশই একে অপরকে দায়ী করছে।
থাই সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পূর্বাঞ্চলীয় উবন রাতচাথানি প্রদেশের দুটি স্থানে কম্বোডিয়ার দিক থেকে গুলি ছোড়া হলে একজন থাই সেনা নিহত এবং চারজন আহত হন। এর পরপরই থাই বাহিনী কম্বোডিয়ার কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। অপরদিকে কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য, কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা বাড়িয়ে সোমবার ভোরে প্রথম হামলাটি করেছে থাইল্যান্ড। তবে তাদের দাবি, কম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে কোনো পাল্টা আক্রমণ চালানো হয়নি।
এর আগে চলতি বছরের জুলাইয়ে সীমান্ত ইস্যু ঘিরে পাঁচ দিনের তীব্র সংঘর্ষে কমপক্ষে ৪৮ জন নিহত এবং প্রায় তিন লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। এর পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের উদ্যোগে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। গত অক্টোবর কুয়ালালামপুরে আরেকটি বর্ধিত শান্তিচুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন।
কিন্তু গত মাসে সীমান্ত অঞ্চলে একটি ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে এক থাই সেনা গুরুতর আহত হলে ব্যাংকক যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন স্থগিতের ঘোষণা দেয়। সেই ঘোষণার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবার বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।
উল্লেখ্য, ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ থাই–কম্বোডিয়া সীমান্তের সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিরোধের ইতিহাস এক শতাব্দীরও বেশি পুরোনো। ১৯০৭ সালে ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনামলে প্রথমবার সীমান্ত মানচিত্রে চিহ্নিত করা হয়। বহুবার কূটনৈতিক আলোচনার পরও এই বিরোধ পুরোপুরি সমাধান হয়নি। সর্বশেষ বড় সংঘর্ষ হয়েছিল ২০১১ সালে, যখন দুই দেশের মধ্যে টানা এক সপ্তাহ আর্টিলারি গোলাবর্ষণ চলে।
সাম্প্রতিক সংঘাতে দুই দেশের সম্পর্ক আবারও চরম উত্তেজনার মুখে পড়েছে, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।