আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সময় যত ঘনিয়ে আসছে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস প্রবাসী আয়ও তত বাড়ছে।
চলতি জানুয়ারি মাসের প্রথম ১৮ দিনেই দেশে দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন ও রমজানকে ঘিরে পরিবারের বাড়তি ব্যয় মেটাতে এবং দেশে অতিরিক্ত অর্থ পাঠানোর প্রবণতা প্রবাসীদের মধ্যে বাড়ে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে স্পষ্ট চাঙাভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এর আগে ডিসেম্বর মাসে দেশে প্রবাসী আয় আসে ৩২২ কোটি ডলার, যা একক মাস হিসেবে দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় ছিল ৩২৯ কোটি ডলার, যা গত বছরের মার্চ মাসে ঈদুল ফিতরের আগে এসেছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালে দেশে মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার, যা প্রায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট মজুতের সমান।
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে এক হাজার ৮৩০ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল এক হাজার ৪৯৮ কোটি ডলার। ফলে এ সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২২ দশমিক ২ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স এসেছে—
জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার এবং ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই প্রবাসী আয় বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকায় বৈধ পথে প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতিতে প্রবাহিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ বর্তমানে ২৮ বিলিয়ন ডলার।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়