বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অর্থ কমিটির প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বোর্ড পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে। তবে তিনি এখনো বিসিবির পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেননি।
অর্থ কমিটির প্রধানের পদ থেকে নাজমুল ইসলামকে অব্যাহতির বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বিসিবি পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন।
বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কোনো পরিচালক নিজ থেকে পদত্যাগ না করলে তাকে সরানোর সুযোগ সীমিত। মৃত্যু, মানসিক ভারসাম্য হারানো, শৃঙ্খলাজনিত শাস্তি, অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া হওয়া, পরপর তিনটি বোর্ড সভায় অনুপস্থিত থাকা—এই কারণগুলোর কোনোটি নাজমুল ইসলামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ফলে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে পরিচালক পদ শূন্য হওয়ার সুযোগ নেই।
এদিকে বিসিবির গঠনতন্ত্রে ক্রিকেটারদের জন্য আচরণবিধি থাকলেও পরিচালকদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো আচরণবিধি নেই—যা অন্যান্য দেশের ক্রিকেট বোর্ডে বিদ্যমান। ফলে শৃঙ্খলাবহির্ভূত আচরণ হলেও পরিচালকদের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
নাজমুল ইসলামকে ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে ক্রিকেটারদের নিয়ে তার কিছু অসৌজন্যমূলক মন্তব্যের পর। এর আগেও ফেসবুকে তামিম ইকবালকে ‘ভারতের দালাল’ বলে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।
এ পরিস্থিতিতে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বুধবার রাতেই এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, নাজমুল ইসলাম বিসিবি পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ না করলে ক্রিকেটাররা সব ধরনের খেলা বর্জন করবেন। এর প্রভাব পড়ে বিপিএলে—মিরপুরে নির্ধারিত দিনের প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়নি এবং দ্বিতীয় ম্যাচ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
তবে দুপুরে বনানীর একটি হোটেলে আয়োজিত কোয়াবের আরেক সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিকেলের মধ্যে যদি বোর্ড তাদের শর্ত মেনে নেয়, তাহলে সন্ধ্যায় তারা মাঠে নামতে প্রস্তুত। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনার পর কোয়াব সভাপতি মিঠুন বলেন,
‘মাঠে যাব একটাই শর্তে—বিসিবি যদি কমিটমেন্ট করে যে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই ব্যক্তি বিসিবিতে থাকবে না। যদি থাকে, তাহলে খেলা বন্ধের দায় ক্রিকেটাররা নেবে না।’
এরপরই নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটির প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত জানায় বিসিবি। ক্রিকেটারদের দাবির মুখে বোর্ডের পক্ষে সম্ভব সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এখন প্রশ্ন—এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হয়ে ক্রিকেটাররা মাঠে নামবেন কি না? সন্ধ্যার রাজশাহী ওয়ারিয়র্স বনাম সিলেট টাইটানস ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে কি না, সেটিই এখন সবার নজরে।