নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১১ দলীয় ইসলামপন্থি জোট ভেঙে গেছে। জোট থেকে বেরিয়ে গিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
তবে ইসলামী আন্দোলন সরে গেলেও এতে নির্বাচনে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বরং দলটি মনে করছে, ইসলামী আন্দোলনের চলে যাওয়ায় নির্বাচনী ঐক্যের ভেতরে তাদের আসন বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ লক্ষ্যে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনাও শুরু করেছে দলটি। একই সঙ্গে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নির্বাচনী ঐক্যের বিষয়ে অপেক্ষা করবে এনসিপি।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এসব কথা জানান। বৈঠকে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, আ ন ম শামসুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ইসলামী আন্দোলনের জন্য রাখা ফাঁকা ৪৭টি আসনের বিষয়ে নির্বাচনী ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা আলোচনা করে প্রস্তাব তৈরি করে শীর্ষ নেতাদের কাছে উপস্থাপন করবেন, এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এক বক্স নীতিতে জামায়াত এখনো অটল রয়েছে এবং সবাই একই বাক্সে ভোট দেওয়ার নীতিতেই রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে নির্বাচনী সফরসূচি ও নীতিনির্ধারণী বিষয় চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী ২০ জানুয়ারি জানানো হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দলের নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।
জুবায়ের জানান, ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং ২২ জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী নির্বাচনী কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। ওই দিন ঢাকা মহানগরে সময় দেবেন কেন্দ্রীয় নেতারা। ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি উত্তরবঙ্গ সফরের খসড়া রয়েছে। ফেব্রুয়ারির ১ তারিখের দিকে জামায়াতের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাহী পরিষদের বৈঠকেই দলটির ম্যানিফেস্টো চূড়ান্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে কর্নেল (অব.) ওলি আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে জামায়াত, এনসিপিসহ ১০ দল ২৫৩ আসনে সমঝোতার ঘোষণা দেয়। সে অনুযায়ী নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ১৭৯ আসনে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০ আসনে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০ আসনে, খেলাফত মজলিস ১০ আসনে, এলডিপি ৭ আসনে, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ৩ আসনে, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ২ আসনে এবং নেজাম ইসলাম পার্টি ২ আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা ছিল।
তবে শুক্রবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে ইসলামী আন্দোলন জামায়াতের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে ২৬৮ আসনে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। পাশাপাশি বাকি ৩২ আসনে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি বাদে সমমনা দলগুলোর প্রার্থীদের সমর্থনের কথাও জানায় দলটি।
এদিকে ইসলামী আন্দোলনের সরে যাওয়ার বিষয়ে শুক্রবার রাতে রাজধানীর জিগাতলায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিক্রিয়া জানান দলের মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের জন্য নির্বাচনী ঐক্যের দরজা এখনো খোলা রয়েছে এবং তারা আশা করছেন দলটি আবার ঐক্যে ফিরবে।
এনসিপির দলীয় সূত্র জানায়, শুরুতে দলটি জামায়াতের কাছে ৩৫ থেকে ৪০টি আসন দাবি করলেও সমঝোতায় ৩০টি আসন পেয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের জন্য রাখা আসনগুলো ফাঁকা হওয়ায় এখন এনসিপির আসন আরও ১০ থেকে ১৫টি বাড়তে পারে বলে দলটি আশা করছে। এ বিষয়ে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি ও দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, ইসলামী আন্দোলনের ঐক্য থেকে বেরিয়ে যাওয়াটা অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও এতে নির্বাচনী ঐক্যে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না। বরং এতে এনসিপির আসন বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়