প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঠিক কতজন নিহত হয়েছেন, তা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য ও আলোচনা রয়েছে। তবে তার হিসাবে, অন্তত ২ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৩০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী এ ঘটনায় ৬০ জন শিশুও নিহত হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার’ ও ‘আমরা জুলাইযোদ্ধা’ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত জুলাইযোদ্ধারা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। তিনি জানান, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করবে সরকার।
বিগত সরকারের শাসনামলের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই অতীতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, অসংখ্য মানুষকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হয়েছে এবং শুধু বিএনপিরই প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মী এসব মামলার কারণে দীর্ঘদিন বাড়িছাড়া ছিলেন।
তিনি বলেন, নিহত ও নির্যাতিত মানুষের প্রত্যাশা ছিল দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। সে কারণে রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক—কোনো পক্ষের প্রতিই বিচারের নামে অন্যায় বা জুলুম করা হবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচার প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগলেও সরকার ধৈর্যের সঙ্গে এগোবে, যাতে প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতায় আসে এবং বিচার প্রশ্নবিদ্ধ না হয়।
তিনি আরও বলেন, সরকার সব ধরনের বিচার প্রচলিত আইন ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সম্পন্ন করবে, যাতে ভুক্তভোগীদের পরিবার ন্যায়বিচার পায় এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা অটুট থাকে।
You cannot copy content of this page