জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব ও ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং মাঠপর্যায়ের সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আন্তর্জাতিক বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। আগামীকাল ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হবে।
বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমুখী প্রভাব বর্তমানে বিশ্ববাসীর জন্য এক কঠিন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি ঘোষিত এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন’ বা জলবায়ু কার্যক্রম বিশ্বব্যাপী এই সংকট মোকাবিলার গুরুত্বকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
তিনি বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, তীব্র তাপদাহ, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়, আকস্মিক বন্যা, খরা এবং জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয় বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবন ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে সামান্য অবদান রাখলেও ভৌগোলিক অবস্থান, উচ্চ জনঘনত্ব এবং জলবায়ু-সংবেদনশীল অর্থনীতির কারণে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তিনি জানান, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন হ্রাস, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এনএপি) এবং জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমন্বিত নীতি অনুসরণ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি উপকূলীয় সুরক্ষা, সামাজিক বনায়ন, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের একটি মেগা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের কাজও শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক কার্বন মার্কেটের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কার্বন ক্রেডিট কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, সবুজ শিল্পায়ন, পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ এবং উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী একটি সবুজ, নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান।