প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ১০, ২০২৬, ৭:০১ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ১০, ২০২৬, ১২:২৮ পি.এম
চট্টগ্রামের বন্যা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ নির্দেশনা জানাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
চট্টগ্রাম অঞ্চলে টানা ভারী বর্ষণ, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় নেওয়া ১০টি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত ১০টি উদ্যোগ’ শীর্ষক এক বার্তায় এসব তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় দুর্গত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাহদী আমিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় গৃহীত পদক্ষেপগুলো হলো—
- দুর্যোগকবলিত এলাকার পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে এবং জেলা প্রশাসক, ইউএনও ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
- চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্গত এলাকায় ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
- জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
- দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলার খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
- প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীকে উদ্ধার কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে।
- স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে অবস্থান করছেন।
- সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, প্রশাসন, সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা মাঠপর্যায়ে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।
- বন্যা ও ভূমিধসের কারণে দুর্গত এলাকার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
- হতাহতদের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে।
- চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে ৪৭ কিলোমিটার রেলপথ ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারীদের জন্য নিরাপদ স্থানে স্থায়ী আবাসনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
পোস্টের শেষাংশে মাহদী আমিন বলেন, সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত, সমন্বিত উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতার মাধ্যমে দুর্যোগ পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত