নাটোরের বড়াইগ্রামে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে তার নিজের নাবালিকা শ্যালিকাকে ধর্ষণের shocking অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কিশোরী বর্তমানে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নেতা ইকবাল হোসেন ও তার ছোট ভাই মাহবুব হোসেনের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ইকবালের স্ত্রী ফারজানা আক্তার অপি। শনিবার, ১১ এপ্রিল রাতে বড়াইগ্রামের বনপাড়া এলাকায় এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার স্ত্রী ফারজানা আক্তার অপি, তার বাবা ওসমান আলী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগের তীব্রতায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ফারজানা আক্তার অপি অভিযোগ করেন, বড়াইগ্রামের বনপাড়া পৌরসভার গুরুমশৈল মহল্লার ফারুক হোসাইনের ছেলে ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ও পৌর ছাত্রদলের ১ নং যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসেনের সঙ্গে ২০১৭ সালে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। তাদের একটি পাঁচ বছরের ছেলে সন্তান রয়েছে। তিনি বলেন, প্রায় বছর খানেক ধরে তিনি দেখছিলেন, ইকবাল কোনো কারণ ছাড়াই মাঝেমধ্যে তার বাবার বাড়ি আসা যাওয়া করতেন। পরে তিনি জানতে পারেন, ইকবাল তার ১৬ বছর বয়সী নাবালিকা ছোট বোনকে ফুসলিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। ঘটনা জানার পর ফারজানা ও তার পরিবার ইকবালকে বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু তিনি থামেননি।
ফারজানা আরও জানান, গত জানুয়ারি মাসের ১০ তারিখে রাত ১১টার দিকে ইকবাল ‘রাজনৈতিক কাজে দেরি হবে’ জানিয়ে ফারজানার বাবার বাড়িতে আসেন। সেই রাতে তিনি তার ছোট বোনকে ফুসলিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। দীর্ঘদিন এ ঘটনা চেপে গেলেও গত সপ্তাহে ভিকটিম কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ডাক্তারের কাছে নেওয়া হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই ভয়াবহ সত্য জানার পর পুরো পরিবার হতবাক হয়ে যায়। ফারজানা বলেন, ‘আমি কল্পনাও করতে পারিনি যে আমার স্বামী আমার ছোট বোনের সঙ্গে এমন জঘন্য কাজ করবে।’
এরপর গত ৩ এপ্রিল থেকে হঠাৎ করে ভিকটিম কিশোরী নিখোঁজ হয়ে যান। ফারজানা জানান, এ ব্যাপারে থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর গত শুক্রবার, ১০ এপ্রিল বিকেলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে বাবার জিম্মায় দেয়। একই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইকবাল ও তার ছোট ভাই মাহবুব এসে জোর করে ওই কিশোরীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ফারজানা বলেন, ‘আমার বাবা-মার চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে আমরা বোনকে উদ্ধার করি। এ সময় ইকবাল ও তার ভাই মাহবুব গণপিটুনির শিকার হয়ে আহত হয়।’ তিনি এ রকম লজ্জাজনক পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য স্বামী ও তার ছোট ভাইয়ের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
ভিকটিমের বাবা ওসমান আলী সংবাদ সম্মেলনে কান্নাভেজা গলায় বলেন, ‘আমি আমার দুই মেয়ের ভবিষ্যৎ নষ্ট করা এই দুশ্চরিত্র, লম্পট ধর্ষক ইকবাল ও তার ভাই মাহবুবের উপযুক্ত সাজা চাই। তারা যেন আর কোনো মেয়ের সঙ্গে এ কাজ করতে না পারে, সে ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে।’ তিনি জানান, তার ছোট মেয়ে এখন মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। পরিবার কীভাবে এই দুঃসহ সময় পার করছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ওসমান আলী বাদী হয়ে বড়াইগ্রাম থানায় ধর্ষণ ও অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস ছালাম। ওসি আব্দুস ছালাম জানান, ‘অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভিকটিমের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
অভিযোগের তীব্রতা প্রমাণ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রোববার, ১২ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে ইকবাল হোসেনকে বনপাড়া পৌর ছাত্রদলের ১ নং যুগ্ম আহ্বায়ক পদ ও সাধারণ সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আসিফ ইকবাল নিউটন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়। বহিষ্কারাদেশে বলা হয়, সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযুক্ত নেতা ও তার ভাইয়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। নাটোরের বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভিকটিমের বিচারের দাবি জানিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত সবার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। ভিকটিম কিশোরীর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তার মানসিক স্বাস্থ্যের দিকটিও বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এই ঘটনা নাটোরসহ সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহারযোগ্য নহে