
ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলের নেতা ও ২০২৫ সালের শান্তিতে নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রমাণ করেছেন যে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের যোগ্য।
কারাকাসের স্থানীয় সময় সোমবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেল ফক্স নিউজের সঞ্চালক শন হ্যানিটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রশংসা করে একে ‘মানবতার জন্য একটি বিরাট পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেওয়া পদক্ষেপের জন্য আমরা কতটা কৃতজ্ঞ, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।”
এর আগে শনিবার ভোররাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সামরিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। অভিযানের সময় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালান ও সন্ত্রাসে জড়িত থাকার অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেয় মার্কিন সরকার।
একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে যুক্তরাষ্ট্রের এমন সামরিক হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরেও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।
এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভেনেজুয়েলার ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা এবং এর সম্ভাব্য আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব তাঁকে উদ্বিগ্ন করছে।
রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে একে ‘অপরাধমূলক ও অবৈধ’ বলে আখ্যা দিয়েছে। একইভাবে চীন এই সামরিক অভিযানকে ‘গুন্ডামি’ উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
মাচাদো এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান। সেখানে তিনি লেখেন, “ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতা খুব কাছেই। শিগগিরই আমরা আমাদের মাতৃভূমিতে তা উদ্যাপন করব।”
সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, নিকোলাস মাদুরো পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করতেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে কয়েক মাস ধরে আত্মগোপনে থাকা মাচাদো জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই তিনি দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন।
অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া দেলসি রদ্রিগেজের প্রতিও অনাস্থা প্রকাশ করেন তিনি। সোমবার ১৪ জন সাংবাদিক আটক হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মাচাদো বলেন, ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে এগিয়ে নিতে হবে।
৫৮ বছর বয়সী মারিয়া কোরিনা মাচাদো দীর্ঘদিন ধরে মাদুরো সরকারের কট্টর সমালোচক। তাঁকে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। তবে তাঁর সমর্থিত প্রার্থী এদমুন্দো গোনসালেস ভোটকেন্দ্রের তথ্যে বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
মাদুরো সরকারের সমালোচনার কারণে একাধিকবার গ্রেপ্তারের হুমকি পান মাচাদো। নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি তাঁর সন্তানদের বিদেশে পাঠান এবং দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকেন।
ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫ সালে তাঁকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। নোবেল কমিটি জানায়, স্বৈরতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ উত্তরণের সংগ্রামের জন্যই তাঁকে এ সম্মান দেওয়া হয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি
Leave a Reply