শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সঙ্গে নিজের দুই দশকের দীর্ঘ অধ্যায়ের ইতি টানলেন লিওনেল মেসি। আবেগঘন এক বার্তায় আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা।
জাতীয় দলের জার্সি ছেড়ে দেওয়া হৃদয়ের জন্য অত্যন্ত কষ্টের হলেও এখন সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে বলে জানিয়েছেন মেসি। সোমবার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের শেষের ঘোষণা দেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার।
মেসি লিখেছেন, “ফাইনালের পর এতদিন ধরে অনেক ভেবেছি। এবার সবাইকে জানাতে চাই, আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি। সিদ্ধান্তটি আমাকে কষ্ট দিয়েছে, এখনো আত্মার গভীরে ব্যথা দেয়। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি, এটাই সময়।”
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর কয়েক সপ্তাহ ধরে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। পরে বাবাকে হারানোর ঘটনাও তার সিদ্ধান্তকে আরও দৃঢ় করেছে বলে জানা গেছে।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে মেসির পথচলা শুরু হয় ২০০৫ সালে। দীর্ঘ এই যাত্রায় তাকে পেরোতে হয়েছে হতাশা, সমালোচনা ও ব্যর্থতার কঠিন সময়। ২০০৮ সালে অলিম্পিকে সোনা জিতলেও জাতীয় দলের হয়ে বড় কোনো শিরোপার অপেক্ষা দীর্ঘ হয়েছিল।
২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে হার এবং এরপর কোপা আমেরিকার টানা দুই ফাইনালে ব্যর্থতা মেসিকে ভীষণ হতাশ করেছিল। এমনকি ২০১৬ সালে একবার জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি। তবে সমর্থকদের ভালোবাসায় সাড়া দিয়ে আবারও আর্জেন্টিনার জার্সিতে ফিরে আসেন।
এরপর বদলে যায় মেসির জাতীয় দলের গল্প। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার সোনালি অধ্যায়। এরপর ফিনালিসিমা, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ এবং পরবর্তী কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক পূর্ণ করেন নিজের স্বপ্নের ক্যারিয়ার।
বিশেষ করে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের শিরোপা ছিল মেসির জন্য বহু বছরের অপূর্ণতার অবসান। তার নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জিতে আর্জেন্টিনা ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটায়। যে ট্রফির জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেটিও নিজের হাতে তুলে নেন তিনি।
জাতীয় দলের হয়ে মেসির এই অর্জন তাকে আর্জেন্টাইন ফুটবলের ইতিহাসে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ব্যর্থতার কান্না থেকে বিশ্বকাপজয়ের আনন্দ—দুই দশকের এই পথচলা এখন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়।
You cannot copy content of this page