চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডে নির্মিত তিনটি ল্যান্ডিং ক্রাফট— মায়া, এসএমএস এমি ও মুনা— সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মারওয়ান অ্যান্ড ট্রেডিং কোম্পানি এলএলসির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের পটিয়ায় ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের সামনে নোঙ্গর করা জাহাজে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএই–এর রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আব্দুল্লাহ খাসিফ আল হামুদি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুর রহিম খান
মারওয়ান শিপিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ মোহাম্মদ হুসাইন আল মারজুকি
চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি আহসান হাবিব
কোস্ট গার্ড ও অন্যান্য সংস্থার কর্মকর্তা
সঞ্চালনায় ছিলেন ওয়েস্টার্ন মেরিনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শহিদুল বাশার।
ইউএই রাষ্ট্রদূত বলেন,
“বাংলাদেশি শিপইয়ার্ডে নির্মিত তিনটি নতুন ল্যান্ডিং ক্রাফট দুই দেশের ব্যবসায়িক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলো।”
তিনি আরও বলেন, ওয়েস্টার্ন মেরিন ও মারওয়ান শিপিংয়ের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে আরও বড় আকার ধারণ করবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুর রহিম খান বলেন,
“সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাত যুক্ত হওয়ায় জাহাজ নির্মাণ আমাদের রপ্তানি খাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।”
জাহাজ তিনটি ইউএই–ভিত্তিক ক্রেতার প্রয়োজন অনুযায়ী নির্মিত। ব্যবহারযোগ্যতা—
অফশোর সাপ্লাই
কার্গো পরিবহন
সমুদ্র বাণিজ্য
প্রযুক্তিগত বিবরণ:
দৈর্ঘ্য: ৬৯ মিটার
প্রস্থ: ১৬ মিটার
ড্রাফট: ৩ মিটার
গতি: ১০ নটিক্যাল মাইল
ডেক স্পেস: প্রায় ৭০০ বর্গমিটার
মানদণ্ড: আন্তর্জাতিক ক্ল্যাসিফিকেশন সোসাইটি ব্যুরো ভেরিটাস অনুমোদিত
ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন সোহেল হাসান জানান—
গত বছর মারওয়ান শিপিংয়ের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ৮টি জাহাজ নির্মাণের চুক্তি হয়।
ইতোমধ্যে ‘রায়ান’, ‘খালিদ’ ও ‘ঘায়া’ নামে তিনটি জাহাজ হস্তান্তর করা হয়েছে।
এবার আরও ৩টি ল্যান্ডিং ক্রাফট হস্তান্তর করা হলো।
আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি জাহাজের চাহিদা বাড়ছে, যা দেশের শিপবিল্ডিং শিল্পের জন্য ইতিবাচক সংকেত।
ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শহিদুল বাশার বলেন—
প্রতিটি জাহাজ নির্মাণে বাজারদর অনুযায়ী ব্যয় দাঁড়ায় ৭–৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এই তিন জাহাজে ওয়ার্কম্যানশিপ বাবদ ২.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাওয়া গেছে।
এক বছরেরও কম সময়ে জাহাজ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।
মারওয়ান শিপিংয়ের সঙ্গে মোট ৮টি জাহাজের চুক্তি—
২টি টাগবোট
৪টি ল্যান্ডিং ক্রাফট
২টি অয়েল ট্যাংকার
এর মধ্যে—
৪টি ল্যান্ডিং ক্রাফট
২টি টাগবোট
চলতি বছরই রপ্তানি হচ্ছে।
বাকি ২টি অয়েল ট্যাংকার ২০২৬ সালের মধ্যে সরবরাহ করা হবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়