হেডিংলিতে রোমাঞ্চকর দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আহত জস বাটলারের সাহসী লড়াই ব্যর্থ করে ১৬ রানের নাটকীয় জয় পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর এই সফরে এটিই লঙ্কানদের প্রথম জয়। একই সঙ্গে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে তারা।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে অধিনায়ক কুশল মেন্ডিসের ১২১ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে ভর করে ৬ উইকেটে ৩২১ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে শ্রীলঙ্কা। ইনিংসে দুবার জীবন পান কুশল। ১৭ রানে গাস অ্যাটকিনসন তার ক্যাচ ফেলে দেন। পরে ৯৯ রানে মাঠের আম্পায়ার তাকে ক্যাচ আউট দিলে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান তিনি।
কামিন্দু মেন্ডিসের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ১৩৭ রানের জুটি গড়েন কুশল। পরে তরুণ পবন রথনায়েকে ৩৯ বলে ৪৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলের সংগ্রহকে তিনশ পেরিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
৩২২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় দুর্দান্ত শুরু করে ইংল্যান্ড। টম ব্যাটন ৭৩ ও বেন ডাকেট ৬৭ রানের ইনিংস খেলেন। উদ্বোধনী জুটিতে তারা মাত্র ২০ ওভারে ১৪৩ রান তুলে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন।
তবে এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন শ্রীলঙ্কার স্পিনার দুনিথ ওয়েলালাগে। প্রথমে ডাকেটকে বোল্ড এবং ব্যাটনকে স্টাম্পিং করার পর ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুককেও মাত্র ১ রানে ফিরিয়ে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৪৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ে বড় ধস নামান ওয়েলালাগে।
এরপর দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেওয়ার সময় হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়ে ৬৭ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন জস বাটলার। শেষ ১০ ওভারে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ৬৩ রান। কিন্তু লঙ্কান বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে পড়ে ইংল্যান্ডের জয়ের সমীকরণ।
শেষ দুই ওভারে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ২০ রান। চোট নিয়েই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে আবার ক্রিজে ফেরেন বাটলার। তবে আর মাত্র ২ রান যোগ করেই ডিপ মিড-উইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। তাতেই শেষ হয়ে যায় ইংল্যান্ডের জয়ের আশা।
শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ৩০৫ রানেই থেমে যায় ইংল্যান্ডের ইনিংস। ফলে ১৬ রানের জয় নিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে সমতা ফেরায় শ্রীলঙ্কা। আগামী রোববার লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে।
You cannot copy content of this page