আগামীকাল রোববার (২৮ জুন) সারাদেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। এ কর্মসূচির আওতায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ ৩৬ হাজার ২২ শিশুকে উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দেশব্যাপী এ ক্যাম্পেইন চলবে। তবে দুর্গম এলাকার শিশুদের আওতায় আনতে ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডে ক্যাম্পেইন-পরবর্তী আরও চার দিন ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বয়সভেদে দুই ধরনের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে নীল রঙের (১ লাখ আইইউ) এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে লাল রঙের (২ লাখ আইইউ) ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
দেশব্যাপী প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্রের পাশাপাশি বাস টার্মিনাল, ফেরিঘাটসহ জনসমাগমস্থলে ৫০০টি অস্থায়ী কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা এসব কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, শিশুদের সুস্থ বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অপুষ্টিজনিত মৃত্যুঝুঁকি কমাতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নির্ধারিত সময়ে শিশুদের নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার সকালে রাজধানীর শাহবাগে আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত থাকবেন।
এদিকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিতে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হবে। মাঠপর্যায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্বে থাকবেন সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ক্যাম্পেইন সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান, পরিবারের ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সব শিশুকে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টার মধ্যে নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করতে।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়ার ঝুঁকি কমায় এবং শিশুমৃত্যুর হার হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কর্মসূচি’ হিসেবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ শুরু হয়। ১৯৯৫ সালে এটি জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হয় এবং ২০০৩ সালে ‘জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন’ নামকরণ করা হয়। ২০১১ সাল থেকে কর্মসূচিটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস)-এর আওতায় পরিচালিত হচ্ছে।
You cannot copy content of this page