প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ১০, ২০২৬, ৭:০৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ১০, ২০২৬, ৮:৩৯ এ.এম
খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জে ভয়াবহ বন্যা, প্লাবিত অন্তত ২০ গ্রাম
টানা ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
হঠাৎ করে বসতবাড়িতে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন হাজারো মানুষ। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি, বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঁধ ভেঙে নোয়াবাদ, চরহামুয়া, সুঘর, বনগাঁও, নতুনবাজার, বালিহাটা, কালীগঞ্জ, যাদবপুর, বিষ্ণুরামপুর, দক্ষিণচর, রামনগর, বনদক্ষিণসহ অন্তত ২০টি গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। পানির তীব্র স্রোতে বসতবাড়ি, সড়ক এবং ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।
এদিকে বন্যার পানিতে হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন অংশ ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খোয়াই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তাদের দাবি, সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব হতো। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মঈনুল হক জানান, জেলার ৯টি উপজেলায় মোট ৮৩টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৫ লাখ টাকা, ১০০ টন চাল এবং ১ হাজার ৮২০ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুত রয়েছে। পাশাপাশি আরও ১ হাজার ৬২০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ শুরু হয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে।