দেশের যেসব ছোট ছোট এলাকায় এখনো অনেক শিশু হাম-রুবেলার টিকা থেকে বাদ পড়েছে, সেসব এলাকায় বিশেষভাবে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি হাম রোগীর চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে ক্লিনিক্যাল গাইডলাইন ব্যাপকভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
গত রোববার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত টিকাবিষয়ক আন্তসংস্থা সমন্বয় কমিটির (আইসিসি) সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।
সোমবার গণমাধ্যমকে স্বাস্থ্যসচিব বলেন, হাম পরিস্থিতি নিয়ে আইসিসির গুরুত্বপূর্ণ সভা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট প্রায় সব অংশীজন উপস্থিত ছিলেন এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সভায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় হামে আক্রান্ত শিশুদের বয়সভিত্তিক তথ্যও পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা গেছে, আক্রান্তদের ১০ শতাংশের বয়স ছয় মাসের কম। ৭৪ শতাংশের বয়স ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস, ১৪ শতাংশের বয়স ৫ থেকে ১০ বছর এবং বাকি ২ শতাংশের বয়স ১০ থেকে ১৪ বছর বা তার বেশি।
স্বাস্থ্যসচিব বলেন, দেশের কিছু ছোট এলাকায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী অনেক শিশু এখনো টিকা পায়নি। এসব শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে। বর্তমানে সরকারের কাছে প্রায় ১৬ লাখ টিকা মজুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সভায় হামের ক্লিনিক্যাল গাইডলাইন নিয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এরই মধ্যে হামের চিকিৎসা-সংক্রান্ত গাইডলাইন চূড়ান্ত হয়েছে। এখন এটি চিকিৎসকদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচারের পাশাপাশি গাইডলাইন অনুসরণে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে ছয় মাসের কম বয়সী এবং পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের হামে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি সভায় আলোচনা হলেও তাদের বিষয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
সভায় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির টিকা মজুত পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হয়। আগামী বছর যাতে টিকার ঘাটতি না হয়, সে জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে শূন্য পদে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ এপ্রিল থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ১ কোটি ৯৩ লাখ ৬৩ হাজার ৯১২ শিশুকে হামের এক ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এসব শিশুর বয়স ৬ মাস থেকে ৫ বছর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮১৫ জনে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৯ জন। সব মিলিয়ে এ বছর হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ৯১৪ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের বড় একটি অংশের বয়স পাঁচ বছরের কম এবং তাদের অনেকেই কোনো টিকা পায়নি।
You cannot copy content of this page