কক্সবাজারের মহেশখালীর বিকল হয়ে যাওয়া ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনাল পুরোপুরি সচল হতে আরও এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
সোমবার (২৭ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আগামী সপ্তাহ থেকে গ্যাস সংকট কিছুটা কমতে শুরু করবে বলে আশা করছি। প্রকৌশলীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোলে প্রথম ধাপে জাতীয় গ্রিডে ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এরপরের সপ্তাহে টার্মিনালটি শতভাগ সক্ষমতায় ফিরবে বলে তারা আশা করছে।”
তবে টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানাতে রাজি হননি প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগে দেওয়া সময়সীমা প্রযুক্তিগত কারণে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তাই এবার নির্দিষ্ট দিন-তারিখ না বলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে অগ্রগতি জানানো হবে।
সমুদ্রপথে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) গ্রহণ, সংরক্ষণ ও পুনরায় গ্যাসে রূপান্তরের জন্য মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ) রয়েছে। গত ২১ জুলাই একটি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে এবং দেশজুড়ে গ্যাস সংকট দেখা দেয়।
এর আগে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) জানিয়েছিল, টার্মিনালটি মেরামতে চার থেকে পাঁচ দিন লাগতে পারে। তবে সর্বশেষ পরিস্থিতিতে মেরামতকাজ আরও জটিল হওয়ায় সময় বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, দুর্ঘটনার সময় একটি এলএনজি কার্গো টার্মিনালের কাছাকাছি অবস্থান করছিল। দ্রুত সেটিকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আরও কিছু যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে, যার কারণে মেরামতকাজে অতিরিক্ত সময় লাগছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর থেকেই পেট্রোবাংলা, আরপিজিসিএল, জ্বালানি বিভাগ এবং টার্মিনাল পরিচালনাকারী এক্সিলারেট এনার্জি যৌথভাবে কাজ করছে।
প্রথমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশা করা হলেও পরে যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিশেষজ্ঞ আনা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এক্সিলারেট এনার্জির আঞ্চলিক প্রধান মঙ্গলবার বাংলাদেশে এসে মেরামতকাজে যুক্ত হবেন।
প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ দ্রুত দেশে আনতে সরকার বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে বলেও জানান তিনি। এয়ার ফ্রেইটে আনা যন্ত্রাংশের কাস্টমস ছাড়পত্র এক ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়।
এর মধ্যে দেশীয় উৎপাদন ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। একটি এফএসআরইউ বিকল হয়ে যাওয়ায় এলএনজি সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
গ্যাস সংকট মোকাবিলায় ভোলা থেকে দ্রুত গ্যাস এনে শিল্পাঞ্চলে সরবরাহের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আনার বিকল্পও বিবেচনা করছে সরকার।
তিনি বলেন, বর্তমানে অতিরিক্ত এলএনজি কিনলেও তা পুনরায় গ্যাসে রূপান্তরের সক্ষমতা সীমিত। কারণ দেশে মাত্র দুটি এফএসআরইউ রয়েছে। তাই স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিয়ে সরকার কাজ করছে।
গৃহস্থালি, শিল্প ও সিএনজি খাতে গ্যাস সংকটে সৃষ্ট ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো ত্রুটি নয়, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সমস্যা। তারপরও জনগণের প্রত্যাশার জায়গা সরকার। তাই জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে আমাদের কোনো দ্বিধা নেই।”
You cannot copy content of this page