রমজান মাসের শেষ দশক মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত বরকতময় ও তাৎপর্যপূর্ণ সময়। ইসলামী শিক্ষায় বলা হয়েছে, এই সময়ের ইবাদতের প্রতিদান অন্যান্য সময়ের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়। তাই আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত হিসেবে এ সময়কে কাজে লাগিয়ে বেশি বেশি সৎকর্ম করা জরুরি।
এই দশকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো লাইলাতুল কদর বা শবে কদর। কোরআনে উল্লেখ আছে, এই রাত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। এ রাতেই আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ করেন এবং বান্দাদের জন্য রহমত ও বরকত বর্ষিত হয়। হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় এ রাতে ইবাদত করবে, তার পূর্বের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।
রমজানের শেষ দশকে মহানবী (সা.) বেশি বেশি ইবাদত করতেন এবং লাইলাতুল কদর অনুসন্ধানে মসজিদে ইতেকাফ করতেন। তিনি নিজে রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং পরিবারের সদস্যদেরও জাগিয়ে দিতেন, যেন তারাও এই বরকতময় সময়ের ফজিলত অর্জন করতে পারে।
এই সময় মুসলমানদের জন্য বেশি বেশি নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আযকার, দোয়া, ইস্তেগফার, দান-সদকা এবং মানবসেবামূলক কাজে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিজের ভুল-ত্রুটির জন্য আন্তরিকভাবে তওবা করে অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, যারা রমজানের প্রথম ও দ্বিতীয় দশকে অবহেলা করেছেন, তারাও শেষ দশকে তওবা ও ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত লাভের সুযোগ পেতে পারেন। তাই এই সময়টিকে অবহেলা না করে সর্বোচ্চভাবে ইবাদতে মনোনিবেশ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়