গাউছুল আজম, পীরানে পীর, দাস্তেগীর, মাহবুবে ছুবহানী ও কুতুবে রাব্বানী শেখ সৈয়দ মহিউদ্দিন আব্দুল কাদির জিলানী আল গিলানী (রহ.)-এর পবিত্র ফাতেহায়ে ইয়াজদাহম উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
‘ইয়াজদাহম’ অর্থ এগারো এবং ‘ফাতেহা’ অর্থ দোয়া করা। আল্লাহর ওলি বড় পীর হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর ওফাত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে ‘ফাতেহায়ে ইয়াজদাহম’ বলা হয়। মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে দিনটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালন করা হয়ে থাকে।
শেখ সৈয়দ মহিউদ্দিন আব্দুল কাদের জিলানী আল গিলানী (রহ.) হিজরি ৫৬১ সনের ১১ রবিউস সানি ইন্তেকাল করেন। তাঁর ওফাত দিবসকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকাহ ও দরবার শরিফে কোরআন খতম, মিলাদ, কিয়াম, দোয়া ও আলোচনা সভাসহ নানা ধর্মীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বাদ আছর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নাসিরনগর উপজেলা সদরের জামেয়া মতিনিয়া আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ওরশ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এছাড়া উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের কচুয়া মিরানীয়া দরবার শরিফ, ফান্দাউক দরবার শরিফ, দাঁতমণ্ডল মিরানীয়া নূরিয়া দরবার শরিফ, মিরানীয়া সাঈদীয়া আজিজিয়া দরবার শরিফ, জেঠাগ্রাম মিরানীয়া আজিজিয়া দরবার, গুনিয়াউক দরবার শরিফ, খান্দুরা দরবার শরিফ, হরিপুর দরবার শরিফ, নাসিরপুর দরবার শরিফ ও শ্রীঘর আজিজিয়া দরবার শরিফসহ বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসা ও খানকাহ শরিফে পৃথক কর্মসূচি পালন করা হয়।
দিনব্যাপী এসব কর্মসূচির মধ্যে ছিল বাদ জোহর পবিত্র খতমে কোরআন শরিফ, খতমে তাহলিল শরিফ, মিলাদ শরিফ, কিয়াম ও বিশেষ মোনাজাত। এতে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে গাউছুল আজম হযরত শায়খ ছৈয়্যদ শেখ মহিউদ্দিন আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। দেশবরেণ্য উলামায়ে কেরাম ও পীর-মাশায়েখরা হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর আধ্যাত্মিক শিক্ষা, আল্লাহর প্রতি গভীর বিশ্বাস, বিনম্রতা, আত্মশুদ্ধি ও মানবসেবার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আলোচনায় তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে ঈমান-আকিদা সুদৃঢ় করা, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতি সাধন এবং সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা ও মানবকল্যাণের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
You cannot copy content of this page