২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৬৩টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে নতুন করে কোনো কর আরোপ করা হয়নি। বরং যেসব পণ্যে আগে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক ছিল, তা কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া আমদানি করা সব ধরনের মসলা ও খেজুরের ওপর থেকে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্কও প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে এসব সিদ্ধান্তের প্রভাব এখনো রাজধানীর খুচরা বাজারে তেমনভাবে দেখা যাচ্ছে না।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কিছু মসলার দাম সামান্য কমলেও অধিকাংশ পণ্যের দাম আগের মতোই রয়েছে। কোথাও কোথাও আবার দাম বেড়েছে। অন্যদিকে খেজুরের বাজারেও এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো মূল্যহ্রাস হয়নি।
পুরান ঢাকার এক মসলা ব্যবসায়ী জানান, এলাচ ও জিরার দাম কিছুটা কমেছে। তবে দারুচিনি, লবঙ্গ, জয়ত্রী, পোস্তদানা, কাজুবাদাম ও কাঠবাদামসহ অনেক মসলার দাম এখনো বেশি। পাইকারি বাজারে উচ্চমূল্যের কারণে খুচরা পর্যায়েও দামে স্বস্তি আসেনি।
আরেক ব্যবসায়ী বলেন, বাজেটে কর কমানোর ইতিবাচক প্রভাব ধীরে ধীরে বাজারে দেখা যেতে পারে। তবে নতুন শুল্ক সুবিধায় আমদানি করা পণ্য বাজারে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগবে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম আরও কমতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
খেজুর বিক্রেতাদের মতে, বর্তমানে বাজারে যে খেজুর বিক্রি হচ্ছে, সেগুলো আগের শুল্ক কাঠামো অনুযায়ী আমদানি করা। নতুন চালান আসার আগে দামে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।
এক বিক্রেতা জানান, সাধারণত অক্টোবরের শেষ দিক থেকে নতুন মৌসুমের খেজুর আমদানি শুরু হয়। তখন নতুন কর-সুবিধার প্রভাব বাজারে দেখা যেতে পারে।
নিত্যপণ্যের বিক্রেতারা বলছেন, পণ্যের দামের ক্ষেত্রে করের পাশাপাশি সরবরাহ পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলে দাম কমে, আর সরবরাহ কমে গেলে দাম বেড়ে যায়। পেঁয়াজের ভালো উৎপাদনের কারণে বর্তমানে এর দাম তুলনামূলক কম থাকলেও রসুন, আদা ও অন্যান্য আমদানিনির্ভর পণ্যের দামে সরবরাহ পরিস্থিতির প্রভাব বেশি।
এদিকে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জাতীয় সংসদের এলডি হলে অনুষ্ঠিত বাজেট-পরবর্তী এক অনুষ্ঠানে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সরকার চায় কর কমানোর সুফল ভোক্তারা যেন বাজারে পান। তিনি জানান, ৬৩টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কোনো কর বাড়ানো হয়নি; বরং অনেক ক্ষেত্রে কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম কমার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় প্রণয়ন করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, কর-সুবিধার মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় রাখা এবং সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো।
You cannot copy content of this page