২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের কয়েকটি রেফারিং সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গোল বাতিল ও পেনাল্টি না দেওয়ার অভিযোগ তুলে ফিফার কাছে তদন্তের দাবি জানিয়েছে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান রেফারিং নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ম্যাচের ফলাফল ‘আগেই নির্ধারিত ছিল’ এবং ফরাসি রেফারির ওপর আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল।
মিসরের আপত্তির মূল বিষয় দুটি। প্রথমত, ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার পর আগের একটি ফাউলের কারণে তাদের একটি গোল বাতিল করা হয়। দ্বিতীয়ত, আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের আগে ফাউলের অভিযোগ থাকলেও সেটি ভিএআরে পর্যালোচনা করা হয়নি বলে দাবি তাদের।
মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হানি আবু রিদা জানিয়েছেন, এসব সিদ্ধান্তের নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে ফিফার কাছে আবেদন করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
তবে ক্রীড়া আইন অনুযায়ী, তদন্ত হলেও ম্যাচের ফলাফল পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এমনকি তদন্তে রেফারিংয়ে ভুল প্রমাণিত হলেও ম্যাচটি পুনরায় আয়োজন করা হবে না। ফলে আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার বিষয়টি অপরিবর্তিত থাকবে।
মিসরের আবেদনের মূল উদ্দেশ্য হলো, ম্যাচ পরিচালনাকারী ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে, তার সহকারী রেফারিরা এবং প্রয়োজন হলে ভিএআর কর্মকর্তাদের টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে দায়িত্ব না দেওয়া এবং তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তদন্ত করা।
তদন্তে যদি রেফারিংয়ে গুরুতর ভুল বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট রেফারি, সহকারী রেফারি ও ভিএআর কর্মকর্তারা শাস্তির মুখে পড়তে পারেন। তবে এর কোনো প্রভাব ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফলের ওপর পড়বে না।
You cannot copy content of this page