সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নসহ অর্থনীতির চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে কিছুটা সময় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার (১৩ জুলাই) অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের পৃথক বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্রগুলো জানায়, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটির মতে, সরকারের রাজস্ব আদায় এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং বাজেট ঘাটতির চাপও রয়েছে। এ অবস্থায় বড় পরিসরে বেতন বৃদ্ধি সরকারি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।
এছাড়া মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে বাজারে অতিরিক্ত অর্থের প্রবাহ সৃষ্টি হতে পারে, যা ভোগব্যয় বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। এসব কারণ বিবেচনায় পে-স্কেল বাস্তবায়ন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেছে আইএমএফ।
তবে সংস্থাটি মনে করছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে ভর্তুকি সংস্কার, ব্যাংক খাতের সংস্কার এবং রাজস্ব প্রশাসনের আধুনিকায়ন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তারা।
এসব বিষয়ে আইএমএফ প্রতিনিধি দল অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গেও বৈঠক করেছে। বৈঠক শেষে বাংলাদেশের সংস্কার কর্মসূচির অগ্রগতি মূল্যায়ন করে সংস্থাটি চূড়ান্ত মতামত দেবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই মূল্যায়ন ভবিষ্যৎ ঋণ কর্মসূচি, বাজেট ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় সংস্কার কার্যক্রম ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। রাতারাতি বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব নয় এবং এ বিষয়ে আইএমএফও একমত হয়েছে। তিনি বলেন, কোন সংস্কার কখন বাস্তবায়ন করা হবে, তা অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেই এগোনো হবে।
সরকার চলতি মাস থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে। এ লক্ষ্যে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে অতিরিক্ত ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, অর্থ বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে নতুন পে-স্কেল প্রণয়নের পদ্ধতি এবং এ খাতে অর্থায়নের পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আইএমএফ। দুই দিনের বৈঠকে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন, আয়-ব্যয়ের পরিকল্পনা, মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অতিরিক্ত ব্যয় মেটাতে সরকারের রাজস্ব আয়ের যে পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেনি আইএমএফ। ফলে বাড়তি ব্যয় নির্বাহের সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
অর্থমন্ত্রী জানান, আর্থিক সংস্কার, রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা এবং অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। নতুন ঋণ কর্মসূচির ভিত্তি ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি সম্পর্কেও সরকার ও আইএমএফের মধ্যে সমঝোতা তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
You cannot copy content of this page