বরগুনার তালতলী উপজেলার কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গেন্ডামারা গ্রাম এখনো মৌলিক যোগাযোগ অবকাঠামোর সংকটে ভুগছে। প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের বসবাস হলেও গ্রামটিতে নেই একটি পাকা সড়ক কিংবা খাল পারাপারের স্থায়ী সেতু। ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও গেন্ডামারা গ্রামে দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। বিভিন্ন সময়ে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত গ্রামের ভেতরে একটি পাকা সড়কও নির্মাণ করা হয়নি। নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোও বাস্তবে কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
গ্রামে প্রবেশের প্রধান দুটি সড়কের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ কিলোমিটার। এর অধিকাংশই কাঁচা হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান কাদা জমে থাকায় যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটেও চলাচল করা কঠিন হয়ে যায়।
গ্রামটিতে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মহিলা দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে। তবে বেহাল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রেও একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন এলাকাবাসী। কাঁচা ও ভাঙাচোরা সড়কের কারণে জরুরি রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না, যা অনেক সময় জীবনঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এদিকে গ্রামের তিনটি ব্রিজ ও কালভার্ট দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা ও চলাচলের অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। ফলে কৃষকরা উৎপাদিত ফসল সহজে বাজারে নিতে পারছেন না। পরিবহন সংকটের কারণে অনেক সময় মাঠেই কৃষিপণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রামবাসী।
এলাকাবাসী দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ, প্রধান সড়কগুলো পাকা করা, ভেঙে পড়া ব্রিজ ও কালভার্ট পুনর্নির্মাণ এবং শিক্ষা, চিকিৎসা ও কৃষিপণ্য পরিবহনের উপযোগী আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন।
তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
You cannot copy content of this page