রাজধানী ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি এবং ঐতিহাসিক ১ আগস্ট ‘ঢাকা দিবস’ উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এবারের প্রতিপাদ্য ‘হৃদয়ে ঢাকা’। আগামী ৩১ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, ঐতিহ্যবিষয়ক ও নাগরিক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
সোমবার (১৩ জুলাই) নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, ১৬১০ সালে বাংলার রাজধানী হিসেবে ঢাকার যাত্রা শুরু হয়। পরে ১৮৬৪ সালের ১ আগস্ট ঢাকা পৌরসভা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে আধুনিক নগর প্রশাসনের সূচনা হয়। সেই ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় ১ আগস্টকে ‘ঢাকা দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসক বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ নানা ঘটনার সাক্ষী ঢাকা। সেই ঐতিহ্য ধারণ করে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও আধুনিক রাজধানী গড়ে তোলাই ডিএসসিসির লক্ষ্য।
তিনি জানান, ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, স্থাপত্য, খাদ্য ঐতিহ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটনকে দেশ-বিদেশে তুলে ধরার পাশাপাশি নাগরিকদের মধ্যে রাজধানীর প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
উৎসবের প্রথম দিন ৩১ জুলাই সকালে অনুষ্ঠিত হবে ‘ঢাকা হেরিটেজ সাইকেল র্যালি’। এটি ঢাকা গেট থেকে শুরু হয়ে নগর ভবনে শেষ হবে। একই দিন বিকেলে হাতি, ঘোড়া, ঘোড়ার গাড়ি, ঐতিহ্যবাহী রিকশা, পালকিসহ বিভিন্ন অনুষঙ্গ নিয়ে বের হবে ‘ঢাকা শোভাযাত্রা’।
১ আগস্ট ‘ঢাকা দিবস’ উপলক্ষে সকালে আয়োজন করা হবে ‘ঢাকা হেরিটেজ ম্যারাথন’। বিকেলে লালবাগ কেল্লায় উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ সময় ঢাকার ইতিহাসভিত্তিক বইয়ের প্রদর্শনী, পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্টল, লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
২ আগস্ট লালবাগ কেল্লায় ঘুড়ি উৎসব, ‘ঢাকা আড্ডা’ শীর্ষক আলোচনা, কাওয়ালি ও সুফি সংগীত পরিবেশনা এবং পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবারের ফুড ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত হবে।
৩ আগস্ট বুড়িগঙ্গা নদীতে খোলামোড়া ঘাট থেকে ঐতিহাসিক ওয়াইজ ঘাট পর্যন্ত আয়োজন করা হবে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা।
এ ছাড়া ১ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পুরোনো চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, বিশেষ নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মঞ্চনাটক, উন্মুক্ত আর্ট ক্যাম্প, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ‘দি গ্রেট ঢাকা সেল’-এর আওতায় মূল্যছাড়, ‘লাভ লেটার টু ঢাকা’ কর্মসূচি এবং সদরঘাট থেকে ‘হেরিটেজ ক্রুজ’-এর মাধ্যমে বুড়িগঙ্গা ভ্রমণের আয়োজন থাকবে।
আবহাওয়া পরিস্থিতির বিষয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে নির্ধারিত সময়েই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া সৃষ্টি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মসূচির সূচিতে পরিবর্তন আনা হতে পারে।
You cannot copy content of this page