জুলাই অভ্যুত্থানের বিরোধিতা করেছেন—এমন অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কয়েকজন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোজাদ্দেদী আলফেছানী।
তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের বিরোধিতার অভিযোগে বিভিন্ন ব্যক্তি প্রমাণসহ অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি তারা যেসব সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, সেসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হওয়া সিন্ডিকেট সভা রাত পৌনে ১২টা পর্যন্ত চলে। সভায় গঠিত চার সদস্যের কমিটিতে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোজাদ্দেদী আলফেছানী, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালাম এবং সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক প্রশাসনের কাছে নীল দলের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং নীল দলকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। সোমবার সন্ধ্যায় ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষক’ ব্যানারে বিএনপিপন্থি সাদা দল এবং জামায়াতপন্থি ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)-এর প্রতিনিধিরা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ দাবি উত্থাপন করেন।
উপ-উপাচার্য জানান, ওই শিক্ষকরা যে অভিযোগ ও প্রমাণ জমা দিয়েছেন, তার ভিত্তিতেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সাদা দল ও ইউটিএলের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় নীল দলের কয়েকজন শিক্ষক বিভিন্ন কর্মসূচি ও বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরোধিতা করেন।
তাদের দাবি, ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা হয় এবং আন্দোলন থেকে সরে আসার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া ৩ আগস্ট নীল দলের ব্যানারে আয়োজিত একটি র্যালি ও মানববন্ধনেও আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই সময়কার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জুলাই অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্তত ৬৮ জন শিক্ষককে পাঠদান থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
এদিকে, জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে ১২৮ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গঠিত নতুন কমিটি অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সুপারিশ দেবে।
You cannot copy content of this page