ইংল্যান্ডকে নাটকীয়ভাবে ২-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে এই ঐতিহাসিক জয়ের আনন্দের মাঝেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। সেমিফাইনালের পর মাঠে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (মালভিনাস) নিয়ে রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আগামী রোববারের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার টিকিট নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচ শেষে উদযাপনের সময় খেলোয়াড়রা ‘Las Malvinas son Argentinas’ (মালভিনাস বা ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনার) লেখা একটি ব্যানার হাতে মাঠে ছবি তোলেন। এরপরই বিষয়টি ফিফার নজরে আসে।
ফিফার শৃঙ্খলা বিধিমালা অনুযায়ী, মাঠে বা ম্যাচ-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক, ধর্মীয় কিংবা ব্যক্তিগত বার্তা প্রদর্শন নিষিদ্ধ। এ কারণে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জরিমানা বা অন্য ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, যা আর্জেন্টিনায় মালভিনাস নামে পরিচিত, দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত একটি ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি। দ্বীপটির সার্বভৌমত্ব নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে।
১৯৮২ সালে এ দ্বীপকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে ৭৪ দিনের যুদ্ধ হয়। ওই সংঘাতে ৬৫৫ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন। এছাড়া তিনজন স্থানীয় বাসিন্দাও প্রাণ হারান। সেই থেকে বিষয়টি দুই দেশের জন্যই অত্যন্ত সংবেদনশীল রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
এ ধরনের ঘটনায় এটি প্রথম নয়। ২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের আগে একই ধরনের ব্যানার প্রদর্শনের দায়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছিল ফিফা। সে সময় ঘটনাটিকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল।
বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরের সেমিফাইনালে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় এবার আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিলারুয়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি ভিডিও পোস্ট করে লেখেন, "এটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ ছিল না।"
তিনি আরও বলেন, "ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনার। স্টেডিয়ামে এই বার্তা নিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ করা যেতে পারে, কিন্তু আমাদের রক্ত ও হৃদয় থেকে এটি মুছে ফেলা যাবে না।"
এর আগে শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে জয়ের পর আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের এমন একটি গান গাইতে দেখা যায়, যেখানে ফকল্যান্ডস যুদ্ধের পাশাপাশি দেশটির দুই কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসির উল্লেখ ছিল।
ফলে ফাইনালের আগে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ফিফার সম্ভাব্য শাস্তিও এখন আর্জেন্টিনা শিবিরের অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
You cannot copy content of this page