বাল্যবিয়ে বন্ধ, কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে আজ ১১ অক্টোবর পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য—‘বাল্যবিয়ে বন্ধ করুন এবং মেয়েদের অধিকার সুরক্ষায় বিনিয়োগ করুন’।
বিশ্বজুড়ে কন্যাশিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, লিঙ্গবৈষম্য দূর করা এবং তাদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। এ উপলক্ষে বিভিন্ন দেশে সভা, সেমিনার ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কন্যাশিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের আত্মবিশ্বাস, দক্ষতা ও নেতৃত্বের বিকাশে সুযোগ তৈরি করাও দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে বাল্যবিয়ে, নির্যাতন ও বৈষম্য প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কন্যাশিশুর অধিকার নিশ্চিত করতে শুধু সচেতনতা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষা, সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পরিবেশ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে মেয়েদের অংশগ্রহণের সুযোগ। বাল্যবিয়ে বন্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও জরুরি।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর এক প্রস্তাবের মাধ্যমে ১১ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এর ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর প্রথমবারের মতো বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়।
দিবসটি কন্যাশিশুদের সম্ভাবনা বিকাশ, সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রতিটি কন্যাশিশু যেন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও নিজের স্বপ্ন পূরণের সমান সুযোগ পায়—এটাই দিবসটির মূল প্রত্যাশা।
You cannot copy content of this page