নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বহির্বিভাগের টিকিট বিক্রি এবং সাদা কাগজে সিল মেরে টিকিট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন সেবা নিতে আসা রোগীরা।
বর্তমানে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে। এর আগে দালালচক্রের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অন্যান্য অনিয়ম বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে হাসপাতাল পরিদর্শন করে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারি নির্ধারিত ৩ টাকার টিকিটের পরিবর্তে ৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া নির্ধারিত টিকিটের বদলে সাদা কাগজে হাসপাতালের সিল দিয়ে রোগীদের কাছে তা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ বিষয়ে টিকিট ক্লার্ক মো. আনোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি। অভিযোগ রয়েছে, টিকিট ক্লার্ক মো. আনোয়ার হোসেন ও হাসপাতালের প্রধান ক্যাশিয়ার মোহাম্মদ বিনের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে এ অনিয়ম চলছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আগিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা বকুল মিয়া বলেন, "৩ টাকার টিকিটের জন্য আমার কাছ থেকে ৫ টাকা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাইনি।"
ঘাগড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা রানা মিয়া বলেন, "হাসপাতালে আসতে প্রায় ৭০ টাকা খরচ হয়েছে, অথচ ১০-১৫ টাকার ওষুধ পেয়েছি। এর চেয়ে ফার্মেসিতে চিকিৎসা নেওয়াই ভালো ছিল।"
বকুল মিয়া আরও অভিযোগ করেন, সাদা কাগজে সিল মেরে টিকিট দেওয়া হচ্ছে, যেখানে হাসপাতালের নামও স্পষ্ট বোঝা যায় না। তার ভাষ্য, সরকারি টিকিটের পরিবর্তে এভাবে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
বুধবার হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাসুম মোস্তফা, নেত্রকোনার সিভিল সার্জন এবং পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম। এ সময় ৩ টাকার টিকিট ৫ টাকায় বিক্রি, সাদা কাগজে সিল ব্যবহার এবং ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বিষয়টিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই বিষয়ে পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ এস এম শহীদুল্লাহ ইমরান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য মানসুরা আলম বলেন, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, "সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৩ টাকার টিকিটের জন্য এর বেশি টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট রোগীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।
You cannot copy content of this page