কক্সবাজারের টেকনাফের পাহাড়ঘেঁষা বাহারছড়া এলাকায় অপহরণ, মাদক ও মানবপাচার দমনে বিশেষ যৌথ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে অপহরণপ্রবণ এলাকায় পুলিশ চৌকি স্থাপন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চিরুনি অভিযান জোরদার এবং রোহিঙ্গাদের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শনিবার টেকনাফে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে চার ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাব উঠে আসে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী। এছাড়া বিজিবি, পুলিশ, র্যাব এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অংশ নেওয়া এক সরকারি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাহারছড়া এলাকায় অপহরণ ও মুক্তিপণ বাণিজ্য উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ কারণে এলাকাটিকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সলিমপুর পাহাড়ে পরিচালিত অভিযানের আদলে সমন্বিত যৌথ অভিযান চালানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি অপহরণপ্রবণ এলাকায় স্থায়ী পুলিশ চৌকি স্থাপন এবং নিয়মিত টহল জোরদারের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
সভা শেষে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে সংঘটিত অপহরণ, মাদক ও অন্যান্য অপরাধ দমনে করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যেই এই বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। খুব শিগগিরই অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বাহারছড়াসহ অপহরণপ্রবণ এলাকাগুলোতে অপরাধ দমনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করে সহজে জামিনে বের হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়ানোর সুযোগও সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, সভায় তিনি অপহরণ আতঙ্ক থেকে এলাকাবাসীকে মুক্ত করতে একটি যৌথ বাহিনী গঠন এবং অপহরণপ্রবণ স্থানে পুলিশ চৌকি স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তার মতে, এসব ব্যবস্থা ছাড়া অপহরণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।
তিনি আরও জানান, অপহরণকারী ও মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত যৌথ অভিযান পরিচালনার আশ্বাস দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে টেকনাফের বাহারছড়াসহ পাহাড়ঘেঁষা এলাকায় অন্তত ৩২০ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে গত এক বছরেই ১৫টি ঘটনায় প্রায় ১৫৫ জনকে অপহরণ করা হয়, যাদের ৯৬ জনই রোহিঙ্গা। একই সময়ে হত্যা, গুলিবর্ষণ ও লাশ উদ্ধারের ঘটনাও বেড়েছে। সর্বশেষ এক সপ্তাহ আগে অপহৃত বাহারছড়ার পল্লী চিকিৎসক কামাল উদ্দিন এখনও উদ্ধার হননি।
এদিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিহাদ সভায় রোহিঙ্গাদের যানবাহন ও বাড়ির মালিকানা এবং মোবাইল আর্থিক সেবা ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের শনাক্তে টেকনাফ এলাকার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পুনরায় যাচাইয়ের আহ্বান জানান।
You cannot copy content of this page