যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণের একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পর তা কার্যকর হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস। ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ-এ অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনে অবস্থানকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
১৪ দফার এই সমঝোতা স্মারককে একটি কর্মসম্পাদনভিত্তিক কাঠামো হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এতে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত কমানো এবং ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চুক্তির প্রথম দফায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করবে। পাশাপাশি কোনো পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক হুমকি বা অভিযান চালাবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় দফায় দুই দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান দেখাবে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়।
তৃতীয় দফা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা করবে। প্রয়োজনে উভয় পক্ষের সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।
চতুর্থ দফায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানোর প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
পঞ্চম দফায় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ ও বাধাহীন রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। যুদ্ধকালীন অস্থিরতার পর এই প্রণালি পুনরায় চালু করাকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে ধরা হয়েছে।
ষষ্ঠ দফায় ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। তবে এতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অর্থায়ন বাধ্যতামূলক নয় বলে জানানো হয়েছে।
সপ্তম দফা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে। এর সময়সূচি চূড়ান্ত আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
অষ্টম দফায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে ইউরেনিয়াম ব্যবস্থাপনা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে রাখার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।
নবম ও দশম দফায় পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে, যেখানে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি চুক্তি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের জন্য একটি যৌথ কাঠামো গঠনের কথা বলা হয়েছে।
একাদশ দফায় ইরানের জব্দকৃত অর্থ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা পরবর্তী আলোচনায় চূড়ান্ত হবে। শেষ দফাগুলোতে চুক্তি বাস্তবায়ন ও ভবিষ্যৎ চূড়ান্ত চুক্তির কাঠামো নির্ধারণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, যা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের মাধ্যমে কার্যকর হবে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই সমঝোতা বাস্তবায়নের ওপর ভিত্তি করেই দুই দেশ পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির দিকে অগ্রসর হবে।
You cannot copy content of this page