মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক হামলার পর হরমুজ প্রণালি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এতে আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে আইআরজিসির হামলার জেরে চলতি সপ্তাহে ইরানে তৃতীয় দফার হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, ইরানের হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একজন বেসামরিক নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন।
এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য জবাবদিহির সুযোগ দেওয়া হলেও ইরান তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। এ ঘটনার পরই যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালায়।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সেন্টকমের বিবৃতি শেয়ার করে বলেন, "ইরান ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন তাদের এর মূল্য দিতে হবে।"
অন্যদিকে রোববার (১২ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, অনুমোদিত নৌপথের বাইরে চলাচলের চেষ্টা করায় একটি জাহাজে নৌবাহিনী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এরপরই আইআরজিসি অনির্দিষ্টকালের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করে।
আইআরজিসির দাবি, বারবার সতর্ক করার পরও নির্দেশনা অমান্য করায় জাহাজটিকে থামাতে গুলি চালানো হয়। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধের জেরে যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ওমান উপকূলের কাছে তিনটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে হামলার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে। ইরান দাবি করে, তাদের জলসীমা দিয়ে যাওয়া পথই একমাত্র নিরাপদ নৌপথ।
ইরানি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলায় ১৭ জন নিহত এবং ১১৫ জন আহত হয়েছেন। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সাম্প্রতিক হামলার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে গেছে। তবে তিনি একই সঙ্গে জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে তেলবাহী জাহাজে হামলাটি ভুলবশত হয়েছে এবং এর জন্য দেশটির ভেতরের একটি নিয়ন্ত্রণহীন গোষ্ঠী দায়ী। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের কাছে হরমুজ প্রণালিকে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের প্রতিশ্রুতি চেয়েছে।
You cannot copy content of this page