আয়াতুল কুরসি Ayat al-Kursi পবিত্র Quran-এর Surah Al-Baqarah-এর ২৫৫ নম্বর আয়াত। এটি ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি আয়াত হিসেবে পরিচিত। আয়াতটিতে আল্লাহর একত্ববাদ, সর্বময় ক্ষমতা, জ্ঞান ও মহিমার বর্ণনা রয়েছে। ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, এই আয়াতে স্বয়ংসম্পূর্ণ ১০টি বাক্য রয়েছে, যার মূল বিষয়বস্তু তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদ।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, Muhammad (সা.) আয়াতুল কুরসিকে কোরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং নিয়মিত তা পাঠ করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন।
হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি সকালে আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, সে সন্ধ্যা পর্যন্ত জিনের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর হেফাজতে থাকবে। একইভাবে সন্ধ্যায় পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত নিরাপদ থাকবে।
সূত্র: মুসতাদরাকে হাকিম (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৭৪৯)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না।
সূত্র: সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ১৪৪৩
ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা একজন ফেরেশতাকে হেফাজতের দায়িত্ব দেন এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান তার নিকটবর্তী হতে পারে না।
সূত্র: সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০১০
সহিহ বুখারিতে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদিসে এসেছে, Abu Hurairah (রা.) রমজানে সদকার খেজুর পাহারা দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন। টানা তিন রাত এক ব্যক্তি খেজুর চুরি করতে এলে তিনি তাকে আটক করেন। প্রতিবারই ওই ব্যক্তি নিজের দারিদ্র্যের কথা বলে মুক্তি চায়।
তৃতীয় রাতে সে আবু হুরায়রা (রা.)-কে বলে, ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে সকাল পর্যন্ত একজন রক্ষাকর্তা নিযুক্ত থাকবেন এবং শয়তান কাছে আসতে পারবে না।
পরদিন বিষয়টি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জানালে তিনি বলেন, "সে তোমাকে সত্য কথা বলেছে, যদিও সে বড় মিথ্যাবাদী।" এরপর রাসুল (সা.) জানান, ওই ব্যক্তি আসলে একজন শয়তান ছিল।
সূত্র: সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৩১১
আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল কাইয়ুম, লা তা'খুযুহু সিনাতুঁ ওয়া লা নাওম। লাহু মা ফিস-সামাওয়াতি ওয়া মা ফিল আরদ। মান জাল্লাযি ইয়াশফাউ ইন্দাহু ইল্লা বি ইজনিহ। ইয়ালামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়া মা খালফাহুম। ওয়া লা ইউহিতূনা বি শাইইম মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শা'আ। ওয়াসিআ কুরসিয়্যুহুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ। ওয়া লা ইয়াউদুহু হিফযুহুমা ওয়া হুয়াল আলিয়্যুল আজিম।
আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সমগ্র সৃষ্টির ধারক ও রক্ষণাবেক্ষণকারী। তাঁকে তন্দ্রা বা নিদ্রা স্পর্শ করে না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, সবই তাঁর। তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ তাঁর কাছে সুপারিশ করতে পারে না। তিনি মানুষের সামনে ও পেছনের সবকিছু জানেন। তাঁর জ্ঞানের কোনো অংশই কেউ আয়ত্ত করতে পারে না, তবে তিনি যতটুকু ইচ্ছা করেন ততটুকুই পারে। তাঁর কুরসি সমগ্র আসমান ও জমিনকে পরিবেষ্টন করে আছে এবং এগুলোর সংরক্ষণ তাঁর জন্য মোটেও কষ্টসাধ্য নয়। তিনি সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী এবং সর্বাপেক্ষা মহান।
You cannot copy content of this page