1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন

জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা মানতে না পেরে এনসিপি ছাড়লেন মুশফিক উস সালেহীন

ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৬

জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার সিদ্ধান্তে একমত হতে না পেরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছেড়ে দিয়েছেন দলটির মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন। একই সঙ্গে তিনি এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব, কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং পলিসি অ্যান্ড রিসার্চ উইংয়ের কো-লিড হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে অনলাইনে পদত্যাগপত্র পাঠান মুশফিক উস সালেহীন।

জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগের দিন দলের আহ্বায়কের কাছে যে ৩০ জন নেতা স্মারকলিপি দিয়ে এই সমঝোতা না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে প্রথম দিকেই মুশফিকের নাম ছিল। তাঁর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতাকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জন কেন্দ্রীয় নেতা এনসিপি ছেড়ে দিয়েছেন।

পদত্যাগপত্রে মুশফিক উস সালেহীন লেখেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে জনগণের মধ্যে একটি তারুণ্যনির্ভর, মধ্যপন্থী, ভবিষ্যৎমুখী ও নতুন ধারার রাজনৈতিক দলের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সেটিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি ব্যক্তিগত ও পেশাগত ঝুঁকি নিয়ে এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলেন। দলের অংশ হয়ে দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনার প্রত্যয়ও তাঁর ছিল।

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি নীতিগতভাবে একমত নন। তাঁর মতে, এই জোটে যোগদান জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নাগরিক রাষ্ট্র নির্মাণের রাজনৈতিক লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

মুশফিক আরও লেখেন, স্বল্পমেয়াদে ভোটের রাজনীতিতে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ মেয়াদে একটি মধ্যপন্থী, শক্তিশালী, আত্মনির্ভরশীল ও বাংলাদেশপন্থী দল হিসেবে এনসিপি গড়ে ওঠার সম্ভাবনা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তিনি বরাবরই এককভাবে অথবা সংস্কারকেন্দ্রিক রাজনীতি করা দলগুলোর সঙ্গে মিলে একটি তৃতীয় জোট গঠন করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে ছিলেন এবং দলের সাধারণ সভা ও কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠকগুলোতে নিয়মিতভাবে এই অবস্থান তুলে ধরেছেন।

পদত্যাগপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেন, দলের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা, নতুন জোটসঙ্গীদের রাজনৈতিক চরিত্র এবং এই জোটের সম্ভাব্য পরিণতি বিবেচনায় নিয়ে তিনি মনে করছেন—এনসিপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ ভিন্ন দিকে মোড় নিতে যাচ্ছে।

তিনি লেখেন, দলের এই সিদ্ধান্তে যাঁরা সমর্থন জানিয়েছেন, তাঁদের অবস্থানের প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল। তবে বর্তমান বাস্তবতায় এনসিপির কোনো পদে থেকে দায়িত্ব পালন করা তাঁর নৈতিক বিশ্বাস ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে আর সংগতিপূর্ণ নয়। এসব কারণেই তিনি এনসিপির সব পদ ও দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

More News Of This Category

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!