প্রান্তিক গ্রাহকরা বিকাশ-এর মাধ্যমে ফোনে সর্বনিম্ন ২০ টাকা রিচার্জ করলে ১ টাকা কেটে রাখা হয় ১৯ টাকা। এরপর গ্রাহক কোনো প্যাকেজে না থাকলে অপারেটররা মিনিটপ্রতি বেস কলরেট দুই টাকা কেটে নেন। এর সঙ্গে সরকারের সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি ৪০ পয়সা, ভ্যাট ৩৬ পয়সা ও সারচার্জ ২ পয়সা যোগ হয়। ফলে মিনিটপ্রতি মোট কেটে নেওয়া হয় ২.৭৮ টাকা।
এই হিসাব অনুযায়ী, ২০ টাকা রিচার্জ করলে গ্রাহক মাত্র ৬.৮৩ সেকেন্ড কথা বলতে পারেন। নেটওয়ার্ক সমস্যা বা কলড্রপ হলে সময় আরও কমে আসে।
মোবাইল গ্রাহকরা বলছেন, এক মিনিট কথা বললে প্রায় তিন টাকা কেটে নেওয়া হয়। মিনিট কিনে ১০–২০ সেকেন্ডও কথা বললেও পুরো মিনিট কেটে নেওয়া হয়। গ্রামীণফোন ব্যবহারকারী আবির হোসেন বলেন, ২০ টাকা রিচার্জ করলে গ্রামে বাবা-মার সঙ্গে ছয়-সাত মিনিটের বেশি কথা বলা যায় না। রবি ব্যবহারকারী রফিকুল ইসলাম সবুজ বলেন, ২ টাকা বেস কলরেটের সঙ্গে ভ্যাট-ট্যাক্স যুক্ত হলে সেবা মানুষের নাগালে হতো। এয়ারটেল ব্যবহারকারী শফিকুর রহমানও একই অভিযোগ করেছেন।
২০১৮ সালের আগস্টে অন-নেট কল ২৫ পয়সা এবং অফ-নেট ৬০ পয়সা ছিল। পরে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সব অপারেটরের জন্য কলরেট সমান করতে ফ্লোর প্রাইজ ৪৫ পয়সা এবং সেলিং প্রাইজ মিনিটপ্রতি দুই টাকা নির্ধারণ করে। তবে পরবর্তী সময়ে ভ্যাট ও সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি বৃদ্ধির কারণে গ্রাহকের ব্যালেন্সে চাপ পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জিপির কর্মকর্তা জানান, অপারেটররা ব্যালেন্স থেকে অতিরিক্ত টাকা কাটছে না; সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি, ভ্যাট ও সারচার্জ সরকার পায়। মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (এমটব) বলেন, প্যাকেজ ও পালস রেট অনুযায়ী কল চার্জ নির্ধারণ করা হয়; অতিরিক্ত কোনো চার্জ নেওয়ার সুযোগ নেই।
বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ফ্লোর প্রাইজ কমিয়ে সবার জন্য সাশ্রয়ী কলরেট নির্ধারণ করা উচিত। নিম্নআয়ের গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সুবিধা এবং প্রতি সেকেন্ডভিত্তিক চার্জিং সিস্টেম কার্যকর করা যেতে পারে।
এ বিষয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী ফোনে রিসিভ করেননি এবং লিখিত প্রশ্নের দুইদিনেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়