বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনের প্রার্থী তারেক রহমান দীর্ঘ ১৯ বছর পর তার পৈতৃক জেলা বগুড়ায় আসছেন। তার আগমনকে ঘিরে বগুড়া শহরজুড়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও সাজসজ্জা। আগামী ১১ জানুয়ারি তিনি বগুড়াসহ উত্তরের নয় জেলায় চার দিনের সফরে আসবেন। এ উপলক্ষে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
দলীয় সূত্র জানায়, তারেক রহমানের আগমন সামনে রেখে বগুড়া শহরে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাগুলো নতুন করে সাজানো হচ্ছে এবং দীর্ঘদিন অবহেলিত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার করা হয়েছে। শহরের সাতমাথা থেকে ফুলতলা পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক, যা দীর্ঘদিন খানাখন্দে চলাচলের অনুপযোগী ছিল, তা মেরামত করে যান চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে।
নবাববাড়ি সড়কে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে তারেক রহমানের জন্য নির্ধারিত কক্ষ নতুন করে সাজানো হয়েছে। কক্ষটির ফ্লোরে টাইলস বসানো, ডেকোরেশন ও রঙের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আদালতপাড়া এলাকায় দুলদুলের ভাস্কর্য সংস্কার করা হচ্ছে। পাশাপাশি বগুড়া পৌরসভার উদ্যোগে শহরতলির শাকপালা এলাকায় তারেক রহমানের করা পার্কটি সংস্কার করা হচ্ছে। রিয়াজ কাজী লেনে অবস্থিত ‘গ্রিন এস্টেট’ ভবনটিও সংস্কার করা হয়েছে, যেখানে তিনি পূর্বে অবস্থান করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো তারেক রহমান বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ঢাকা-১৭ আসন থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বগুড়ার গাবতলীতে তার বাবা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পৈতৃক বাড়ি অবস্থিত। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে বগুড়া-৭ আসন থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে জয়ী হন।
বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা জানান, ১৯ বছর পর পৈতৃক জেলা সফরকে সফল করতে তার নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করছেন।
বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের প্রার্থী মোশারফ হোসেন জানান, ১১ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে তারেক রহমান ঢাকা থেকে বগুড়ায় পৌঁছাবেন এবং শহরতলির ছিলিমপুর এলাকার চার তারকা হোটেল নাজ গার্ডেনে রাত্রিযাপন করবেন। ১২ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি বগুড়া সেন্ট্রাল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় গণদোয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
এরপর তিনি শহরের সাতমাথা হয়ে ঢাকা–রংপুর মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় অতিক্রম করে মহাস্থানে হযরত শাহ্ সুলতান বলখী মাহিসাওয়ার (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। সেখানে তাকে স্বাগত জানাবেন বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের প্রার্থী মীর শাহে আলম। মাজার জিয়ারত শেষে শিবগঞ্জের মোকামতলায় আয়োজিত গণদোয়ায় অংশ নিয়ে তিনি রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। পরবর্তী চার দিনে তিনি নয় জেলায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
দলীয় নেতারা জানান, ১৯৯০-এর দশকে বগুড়া জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ইতোমধ্যে তার বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মোশারফ হোসেন আরও জানান, আচরণবিধির কারণে তারেক রহমানকে গণসংবর্ধনা দেওয়ার কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। তবে খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত গণদোয়ায় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।