তফসিল ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সব ধরনের নির্বাচনি প্রচার সামগ্রী (পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড) অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়। তবে তফসিল ঘোষণার ৯০ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও এলাকায় এখনও দৃশ্যমান রয়েছে নির্বাচনি পোস্টার, ব্যানার ও তোরণ।
সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়—দেয়াল, বিদ্যুতের খুঁটি, চায়ের দোকান, মেট্রোরেল পিলারসহ নানা জায়গায় রাজনৈতিক দল ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার সাঁটানো রয়েছে। ঝোলানো ব্যানারের সংখ্যা কিছুটা কমলেও রাস্তার এপাশ-ওপাশে বাঁশের তৈরি বড় তোরণ এখনও বহাল রয়েছে, যা রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন।
ইসির একাধিক সতর্কবার্তা ও কঠোর হওয়ার ঘোষণার পরও প্রার্থীদের মধ্যে আচরণবিধি মানার তেমন কোনো প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। উল্টো কোথাও কোথাও নতুন পোস্টার লাগানোর ঘটনাও লক্ষ্য করা গেছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আয়োজিত সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, “ঢাকা শহর পোস্টারে ছেয়ে গেছে। এগুলো সরাতে হবে। আমরা কঠোর হবো, কোনো লঙ্ঘনকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
এদিকে গত রবিবার (৭ ডিসেম্বর) নির্বাচন ভবনে কমিশন সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, তফসিল ঘোষণার পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সব প্রচার সামগ্রী অপসারণ করতে হবে। তা না হলে আচরণবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে তফসিল ঘোষণার পরেও পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে ইসির কার্যকর ভূমিকা নিয়ে। এ বিষয়ে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, কিছু ব্যানার কমেছে, তবে দেয়ালে আঠা দিয়ে লাগানো পোস্টার সরানো কঠিন হওয়ায় সেগুলো রয়ে গেছে। রিটার্নিং অফিসারদের বিষয়টি জানানো হবে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাসউদ বলেন, সম্ভাব্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া তুলনামূলক কঠিন। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। তবে না সরালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে পোস্টার অপসারণ করা হবে।
নতুন সংশোধিত আচরণবিধিতে নির্বাচনি আচরণ লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা দেড় লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। দলগুলোর ক্ষেত্রেও এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার সুযোগ রয়েছে। এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও ইসির হাতে রয়েছে।
এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনও অনুমতিবিহীন ব্যানার, পোস্টার ও নির্বাচনি প্রচার সামগ্রী অপসারণে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। নগরী পরিচ্ছন্ন রাখতে স্ব-উদ্যোগে এসব সরানোর আহ্বান জানানো হয়েছে; অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মিরপুরসহ কিছু এলাকায় সিটি করপোরেশনের কর্মীরা রাজনৈতিক ব্যানার অপসারণ করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী বলেন, “দলের নেতারা সরালে ভালো হতো, কিন্তু তারা করেন না। শেষ পর্যন্ত আমাদেরই করতে হয়।”
পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২০টি নির্ধারিত আকারের বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন
ব্যানার, লিফলেট ও ফেস্টুন সাদা-কালো হতে হবে
সরকারি স্থাপনা, যানবাহন, দেয়াল, গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটিতে প্রচার সামগ্রী লাগানো যাবে না
পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উপকরণ ব্যবহার নিষিদ্ধ
তফসিল ঘোষণার পর সময় গড়ালেও বাস্তবে আচরণবিধি কার্যকর না হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের কঠোরতা ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে।