২০০৩ সালের পর প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে অবসান হয়েছে ২৩ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার। ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শুরু হয়েছে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টায়।
অন্যদিকে, এই ম্যাচ দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ত এক সময়ের শুরু হচ্ছে। আগামী ১২ মাসে ২০ কিংবা ২১টি টেস্ট খেলার কথা রয়েছে তাদের।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের পরের টেস্ট সফর কবে হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে এবারের দুই ম্যাচের সিরিজ বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ভালো পারফরম্যান্স করতে পারলে ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে আরও বেশি সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
তবে কাজটা বাংলাদেশের জন্য সহজ নয়। প্রস্তুতি ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ব্যবধানে হারের ধাক্কা সামলে পূর্ণ শক্তির অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজেদের মেলে ধরতে হবে নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে।
একটি জায়গায় অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সমতায় আছে বাংলাদেশ। দুই দলই নিজেদের শেষ পাঁচ টেস্টের চারটিতে জয় পেয়েছে।
ডারউইনে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। ম্যাচের আগে ধারণা করা হয়েছিল, টসজয়ী দল ফিল্ডিং নিতে পারে। তবে সেই ধারণার বিপরীতে গিয়ে ব্যাটিং বেছে নেন কামিন্স। তিনি বলেন, এই সিরিজ নিয়ে অস্ট্রেলিয়া দারুণ রোমাঞ্চিত এবং দীর্ঘ সময় ধরে এটির অপেক্ষায় ছিল।
বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে পেরে গর্বিত ও রোমাঞ্চিত বলে জানিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়া বরাবরের রীতি অনুসরণ করে টেস্টের আগের দিনই একাদশ ঘোষণা করে। একাদশে দুই পেস বোলিং অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন ও বাউ ওয়েবস্টারকে রাখা হয়েছে।
উদ্বোধনে ট্রাভিস হেডের সঙ্গে আছেন ডারউইনের ঘরের ছেলে জেইক ওয়েডারল্ড। ডারউইন তথা নর্দান টেরিটরিতে জন্ম ও বেড়ে ওঠা একমাত্র টেস্ট ক্রিকেটার তিনি। গত অ্যাশেজে পাঁচ টেস্টে মাত্র একটি অর্ধশতক করলেও দলে জায়গা ধরে রেখেছেন বাঁহাতি এই ওপেনার। বাংলাদেশের বিপক্ষে ভালো করতে না পারলে তার জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
দলে জায়গা ধরে রাখার লড়াইয়ে আছেন মার্নাস লাবুশেনও। তিন নম্বরে নামবেন তিনি। সবশেষ সাত ইনিংসে তার কোনো অর্ধশতক নেই, আর শতরানের দেখা পাননি ৪০ ইনিংস ধরে। ক্যারিয়ারের শুরুতে তার ব্যাটিং গড় ছিল ৬০-এর বেশি। ৫০ টেস্ট শেষে সেটি ছিল ৫০-এর কাছাকাছি। বর্তমানে তার গড় নেমে এসেছে ৪৪ দশমিক ৭০-এ। এই সিরিজেও বড় রান না পেলে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তার জায়গা পাওয়া কঠিন হতে পারে।
এক বছরেরও বেশি সময় পর অস্ট্রেলিয়ার পেস বোলিংয়ের বিখ্যাত ত্রয়ী প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হেইজেলউড একসঙ্গে মাঠে ফিরেছেন। চোটের কারণে গত অ্যাশেজে কামিন্স খেলতে পেরেছিলেন মাত্র একটি টেস্ট, আর হেইজেলউড কোনো ম্যাচেই মাঠে নামতে পারেননি। এবার তারা সবাই ফিট হয়ে ফিরেছেন। অ্যাশেজের মাঝপথে চোটে ছিটকে পড়া অফ স্পিনার ন্যাথান লায়নও একাদশে আছেন।
অস্ট্রেলিয়ার একাদশে আছেন—ট্রাভিস হেড, জেইক ওয়েডারল্ড, মার্নাস লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স কেয়ারি, বাউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, ন্যাথান লায়ন ও জশ হেইজেলউড।
অন্যদিকে, তিন পেসার ও দুই স্পিনার নিয়ে ডারউইন টেস্টে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের সঙ্গে রয়েছেন অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে না খেলা মিরাজ প্রস্তুতি ম্যাচে শতরান করে একাদশে ফিরেছেন।
প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করা পেসার হাসান মাহমুদের সঙ্গে রয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন। একাদশে জায়গা হয়নি সৈয়দ খালেদ আহমেদের।
বাংলাদেশের একাদশে আছেন—তানজিদ হাসান, সাদমান ইসলাম, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন চৌধুরি।
নতুন বলে শুরু থেকেই আঁটসাঁট বোলিং করেছেন তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ। দুই ওপেনারকে বেশ চাপে রেখেছেন তারা। বিশেষ করে জেইক ওয়েডারল্ডকে শুরু থেকেই অস্বস্তিতে ফেলেছেন হাসান মাহমুদ।
৬ ওভার শেষে কোনো উইকেট না হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রান ছিল ১৯। ওয়েডারল্ড ১৫ বলে ৪ রান এবং ট্রাভিস হেড ২২ বলে এক চারে ৮ রান নিয়ে ব্যাট করছিলেন। তিন ওভারে ৬ রান দেন তাসকিন। হাসান মাহমুদ তিন ওভারে দেন ৭ রান।
নবম ওভারে বোলিংয়ে পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। আক্রমণে এসে ট্রাভিস হেডকে বেশ ভোগান ইবাদত হোসেন চৌধুরি। তার পঞ্চম বলে এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। তবে পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত বদলায়নি।
রিভিউতে দেখা যায়, বলের আঘাতের স্থান আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের আওতায় ছিল। পাশাপাশি বলটি স্টাম্পে লাগার সম্ভাবনাও ছিল না; সেটি অফ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে চলে যেত। ফলে রিভিউ হারায় বাংলাদেশ।
ওভারটি মেডেন নেন ইবাদত। ৯ ওভার শেষে কোনো উইকেট না হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৩১ রান।
You cannot copy content of this page