জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে কয়েকটি হাতে লেখা চিরকুট। জাতীয় সংসদের প্যাডসহ বিভিন্ন কাগজে লেখা এসব চিরকুটে সম্পর্কের টানাপোড়েন, হতাশা, ক্ষোভ ও মানসিক কষ্টের কথা উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। তবে চিরকুটগুলোর বক্তব্য মৃত্যুর কারণ বা কারও দায় প্রমাণ করে না; বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় রয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সংসদ সদস্য ভবন (ন্যাম ভবন) এলাকার ৫ নম্বর ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়। পরে পিবিআই ও সিআইডির ফরেনসিক ইউনিটকেও তদন্তে যুক্ত করা হয়।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার মো. ইবনে মিজান ঘটনাটি নিশ্চিত করেন। প্রাথমিকভাবে মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত না হওয়ায় ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
মৃত্যুর পর প্রকাশ্যে আসা কয়েকটি হাতে লেখা চিরকুটে সম্পর্ক নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভের কথা রয়েছে। একটি চিরকুটে লেখা হয়েছে, ‘সে ছিল অন্য নারীর স্বামী, কাগজে-কলমে অধিকার ছিল তার সতীন-বধূর। আর আমি ছিলাম বোকা! অন্য কারও স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ! কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের। কারণ, ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়।’

আরেকটি চিরকুটে লেখা রয়েছে, ‘আমি হেরেছি, তুমি জিতেছো। কারণ আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো...।’

অন্য একটি লেখায় সম্পর্ককে যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে বলা হয়েছে, ‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সঙ্গে। তো জিততে পারিনি, হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবোই বা কেমনে, যুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে দেখি তুমিই তো ছিলে বিপক্ষ দলের সেনাপতি!’
আরেকটি চিরকুটে আত্মমর্যাদা ও ভালোবাসার অবমূল্যায়নের অভিযোগ তুলে লেখা হয়েছে, ‘শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই। তা না হলে যতোটা সস্তা ভাবছো, ততোটা সস্তা আমি নই...!’
চিরকুটগুলোতে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে তীব্র আবেগ ও হতাশার প্রকাশ থাকলেও এগুলোর পূর্ণ প্রেক্ষাপট, লেখার সময় এবং মৃত্যুর সঙ্গে সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
এদিকে মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন। মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমসহ আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। বিষয়টি তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার মো. ইবনে মিজান নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে মামলা দায়েরের পর তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যু নিয়ে তদন্তে ঘটনাস্থলের আলামত, ফরেনসিক তথ্য, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, চিরকুটের সত্যতা ও লেখকের পরিচয়, মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে কার কার যোগাযোগ হয়েছিল এবং মামলায় আনা অভিযোগ—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বা কারও দায় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
এর আগে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে গাজী নজরুল ইসলাম ও মরিয়ম খাতুনকে ঘিরে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। পরবর্তীতে গাজী নজরুল ইসলাম মরিয়মকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
You cannot copy content of this page