রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে এক তরুণীকে নিথর অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে যে রহস্য তৈরি হয়েছিল, তার অনেকটাই এখন পরিষ্কার হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে ওই তরুণী নিজেই জানিয়েছেন, তিনি জীবিত আছেন এবং বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার (২৬ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের মধ্যে। ওই সময় ঢাকার সড়কে একটি মোটরসাইকেলে তিনজনকে দেখতে পান মুফতি মনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি। ওমরাহ শেষে বগুড়ায় ফেরার পথে তিনি আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত মোটরসাইকেলটি অনুসরণ করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলটির চালকের পেছনে বসা এক যুবক এক তরুণীকে জাপটে ধরে রেখেছিলেন। তরুণীর দুই পা খালি ছিল এবং অস্বাভাবিকভাবে নিচের দিকে ঝুলছিল। বিষয়টি দেখে তার সন্দেহ হয়, তরুণীটি জীবিত নাকি অচেতন।
মুফতি মনোয়ার বলেন, ‘জাগ্রত বা জীবন্ত মানুষের এমনভাবে পা ঝোলার কথা না।’ এ কারণেই তিনি বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
পরে মোটরসাইকেলটির নম্বর প্লেটের তথ্য ধরে বিভিন্ন সংস্থার সূত্রে জানা যায়, এর মালিকের বাড়ি কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর এলাকায়। অনুসন্ধানে দুটি মোবাইল নম্বরও পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি নম্বরের শেষ তিন সংখ্যা ১৫২। নম্বরটি একটি শোরুম মালিকের হলেও তিনি দাবি করেন, তার শোরুম থেকে ওই মোটরসাইকেল বিক্রি হয়নি। কীভাবে তার নম্বর মোটরসাইকেলটির সঙ্গে যুক্ত হলো, সে বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না। অপর নম্বরটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলটির মালিকের বাড়ি আব্দুল্লাহপুরে হলেও সেটি চালাচ্ছিলেন রাজেন্দ্রপুরের এক যুবক। তার নামের শেষাংশ ‘আলম’। তিনি মোটরসাইকেলে থাকা তরুণীকে নিজের স্ত্রী বলে পরিচয় দিয়েছেন। তবে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তরুণীর বড় বোনের স্বামী জানান, ‘মিতু’ (ছদ্মনাম) কখনো মদ্যপান করেননি। সেদিন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হওয়ায় তিনি রাগ করে চলে যান। পরে ওই যুবকের সঙ্গে তিনি মদ্যপান করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে বাসায় পৌঁছে দিতে ওই যুবকেরা চেষ্টা করেন।
আলম ওই তরুণীর স্বামী কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিয়ে করবে বলে শুনেছি।’
জানা গেছে, ওই তরুণীর আগে দুটি বিয়ে হয়েছিল। তার সাবেক এক স্বামী তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তরুণীর বড় বোনের স্বামীর দাবি, বারে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর আলম ও তার এক বন্ধু তাকে নিয়ে টঙ্গীতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে ওই অবস্থায় টঙ্গীতে না গিয়ে তারা মিরপুরে ফিরে যান। সেখানে এক বান্ধবীর বাসায় তরুণীকে রেখে আলম তার বোনকে ফোন করেন।
সবশেষে শুক্রবার বিকেলে ওই তরুণী নিজেই জানান, তিনি জীবিত এবং বর্তমানে সুস্থ আছেন। ফলে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে তাকে নিথর অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া মৃত্যুর আশঙ্কা আপাতত দূর হয়েছে। তবে ওই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল এবং তরুণীর অসুস্থ হওয়ার প্রকৃত কারণ কী—তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
You cannot copy content of this page