যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল থেকেই এ আলোচনা শুরু হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন। এর আগে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের অনুরোধে সম্ভাব্য সামরিক হামলা স্থগিত রাখার কথাও দাবি করেন ট্রাম্প।
সোমবার (৩ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরান সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি সম্পর্কে অবগত ছিল এবং বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে এই আলোচনা কোথায় হবে বা কারা এতে অংশ নেবেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।
এর আগে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, চুক্তির ‘পরিধি’ নিয়ে সমঝোতা হওয়ায় ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি সম্পন্নের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আমরা প্রস্তুত আছি, তবে আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না।”
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তাকে সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছিলেন। তার ভাষ্য, হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও একটি চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি। তাদের দাবি, অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপ এড়াতে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কোনো অনুরোধ জানায়নি। ট্রাম্পের বক্তব্যকে তারা “নতুন একটি মিথ্যা” বলেও উল্লেখ করেছে।
এদিকে ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রোববার বলেছেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর কথা বলে এলেও অতীতেও এমন উদ্যোগের পর দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এখন সম্ভাব্য নতুন আলোচনা পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেদিকেই নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।
You cannot copy content of this page