সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক কয়েকটি যৌন নিপীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ‘কাঠামোগত অপপ্রচার’ চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার রাতে সংগঠনটির আমির মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব সাজেদুর রহমান এক যৌথ বিবৃতিতে এ অবস্থান তুলে ধরেন। পরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠায়।
বিবৃতিতে হেফাজতের নেতারা বলেন, সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু যৌন নিপীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কওমি মাদ্রাসাগুলোকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে তারা মনে করেন। তাদের দাবি, কওমি মাদ্রাসার ঐতিহাসিক ও সামাজিক ভূমিকার কারণে এটি বিভিন্ন মহলের সমালোচনার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
এছাড়া, দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাদ্রাসার জায়গা-জমি দখলের উদ্দেশ্যে মিথ্যা যৌন হয়রানির অভিযোগ আনা হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন। তাদের মতে, সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগেই কিছু ক্ষেত্রে গণমাধ্যমে বিচারধর্মী উপস্থাপনার সুযোগ নেওয়া হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।
তবে হেফাজতের দুই নেতা বলেন, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা মাদ্রাসা—যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। কোনো অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা কার্যকর করা প্রয়োজন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের সব ছোট-বড় মাদ্রাসায় শিক্ষার মান, শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিচালকদের আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করবে—এমন প্রত্যাশার কথাও জানায় সংগঠনটি।
You cannot copy content of this page