সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাজান এলাকায় ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের ছোড়া একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে দুইজন আহত হয়েছেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) জাজানের আল-তুওয়াল গভর্নরেটে এ হামলা চালানো হয়। এতে একটি মসজিদসহ বেশ কয়েকটি ভবন ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এবং সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
হামলার পর সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো এ হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেখানে নির্ধারিত জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে হুতিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান প্রদেশের শারুরায় অবস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটি।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বেড়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরানের বিভিন্ন বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭৩ জন আহত হন।
ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় প্রায় চার বছর তুলনামূলক শান্ত থাকার পর গত জুলাইয়ে ইয়েমেনে আবারও সংঘাত শুরু হয়।
এরই মধ্যে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের পুরো অংশ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পাশাপাশি কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা দখল করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী আল-জওফ, মারিব ও আল-বায়দায় নতুন করে লড়াই শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, নতুন করে শুরু হওয়া এসব সংঘাতে ইতোমধ্যে ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
You cannot copy content of this page