ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান পরিচালনার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘোষণার পর দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। তবে সর্বশেষ এ ঘটনায় হতাহতের পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।
সোমবার (১৩ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার সক্ষমতা দুর্বল করাই এ অভিযানের মূল লক্ষ্য।
মার্কিন ঘোষণার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, কেশম দ্বীপ, জাস্ক, সিরিক এবং বন্দর আব্বাসের পশ্চিমাঞ্চলে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এসব ঘটনায় আবাসিক বা বাণিজ্যিক স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি কিংবা ব্যাপক হতাহতের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এর আগে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে।
এদিকে ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক উপ-গভর্নর ভলিউল্লাহ হায়াতি জানিয়েছেন, সোমবার ভোরে মাহশাহর শহরের একটি কৃষি পানি পাম্পিং স্টেশনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে সেখানে কর্মরত এক নিরাপত্তারক্ষী নিহত হন এবং আরও চারজন আহত হন। আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, একদিনে ইরানের অন্তত ১৪০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। ওই হামলার পর ইরান বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার ও জর্ডানের দিকে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। তবে ইরানের পারস্য উপসাগরীয় প্রণালী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।
এদিকে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ জানিয়েছে, রোববার ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। একই সময়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আবারও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
You cannot copy content of this page