একসময় লেবাননে হিজবুল্লাহ সদস্যদের ব্যবহৃত পেজার বিস্ফোরণের সঙ্গে যে যন্ত্রটির নাম জড়িয়ে যায়, সেই পেজারই এবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মঞ্চে হাতে তুলে নিলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু। তবে তার বক্তব্য শুরুর আগেই বিভিন্ন দেশের কয়েক ডজন প্রতিনিধি অধিবেশনকক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান। কক্ষে শোনা যায় প্রতিবাদ ও কটাক্ষের আওয়াজ।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেন নেতানিয়াহু। তিনি মঞ্চে ওঠার সময়ই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের একটি অংশ কক্ষ ত্যাগ করেন। এতে অধিবেশনকক্ষের বড় একটি অংশ ফাঁকা হয়ে যায়। বিপরীতে ইসরাইলি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে তাকে করতালি দিয়ে সমর্থন জানান।
অধিবেশনকক্ষ থেকে প্রতিনিধিদের চলে যাওয়ার সমালোচনা করেন নেতানিয়াহু। তাদের ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এরপর ২০২৪ সালে লেবাননে হিজবুল্লাহ সদস্যদের ব্যবহৃত পেজার বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে হাতে একটি পেজার দেখান। নেতানিয়াহু বলেন, হিজবুল্লাহ ওই বিস্ফোরণের কথা নিশ্চয়ই মনে রেখেছে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে লেবাননে হিজবুল্লাহ সদস্যদের ব্যবহৃত হাজার হাজার পেজার একযোগে বিস্ফোরিত হয়। পরদিন সংগঠনটির ব্যবহৃত ওয়াকিটকিতেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দুই দিনের এসব ঘটনায় বহু মানুষ নিহত ও কয়েক হাজার মানুষ আহত হন। হিজবুল্লাহ এ ঘটনার জন্য ইসরাইলকে দায়ী করলেও ইসরাইল আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেনি।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে তখন বলা হয়েছিল, হিজবুল্লাহর কাছে পৌঁছানোর আগেই পেজারগুলোর ভেতরে বিস্ফোরক ও সেগুলো সক্রিয় করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পরে বিশেষ সংকেতের মাধ্যমে যন্ত্রগুলো বিস্ফোরিত করা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন করা হয়েছিল, তা প্রকাশ্যে পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি।
ইসরাইলি গোয়েন্দাদের নজরদারি এড়াতে হিজবুল্লাহ মোবাইল ফোনের পরিবর্তে পেজার ব্যবহার করত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মোবাইল ফোনের অবস্থান তুলনামূলক সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হওয়ায় পেজারকে তারা নিরাপদ যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করত। ২০২৪ সালের বিস্ফোরণের পর সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাই বড় প্রশ্নের মুখে পড়ে।
বিস্ফোরিত কিছু পেজারে তাইওয়ানের প্রতিষ্ঠান গোল্ড অ্যাপোলোর নাম পাওয়া গেলেও কোম্পানিটি ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, হাঙ্গেরিভিত্তিক একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে তাদের ব্র্যান্ড ব্যবহার করে পেজার তৈরি করা হয়েছিল। হাঙ্গেরির ওই প্রতিষ্ঠানও ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে।
এর একদিন পর হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত ওয়াকিটকিতেও বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরিত কয়েকটি যন্ত্রে জাপানের আইকমের নাম পাওয়া যায়। তবে আইকম জানায়, সংশ্লিষ্ট মডেলটির উৎপাদন প্রায় এক দশক আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলে বিস্ফোরিত এসব যোগাযোগযন্ত্র কীভাবে হিজবুল্লাহর হাতে পৌঁছেছিল, তা নিয়েও তখন প্রশ্ন ওঠে।
You cannot copy content of this page