নেত্রকোনায় শুল্ক (কর) ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে আনা ভারতীয় তৈরি ফুচকাসহ চারজন চোরাকারবারিকে গ্রেফতার করেছে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভোরে জেলা শহরের বাহিরচাপড়া এলাকায় নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে স্থাপিত চেকপোস্ট থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় চোরাচালানের কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যানও জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গ্রেফতারকৃত চার আসামি হলেন- জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার নোহাস পশ্চিমপাড়া গ্রামের মোক্তার হোসেনের ছেলে সুমন মিয়া (২৬), নেত্রকোনা সদরের পারলা (চল্লিশাপাড়া) এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে সামাদ আহম্মেদ তপু (২৯), সদর উপজেলার দড়িজাগি গ্রামের মোখলেস মিয়ার ছেলে ইয়াসিন (২৩) এবং পূর্বধলা উপজেলার ইসবপুর (মধ্যপাড়া) ভবের বাজার এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আলম মিয়া (২৪)।
নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চোরাচালান প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১নং গেটের পাশে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে পুলিশ। চেকপোস্টে নিয়মিত তল্লাশি চলাকালীন একটি নীল রঙের টাটা এসি ব্র্যান্ডের পিকআপ গাড়ির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ সেটিকে থামার সংকেত দেয়। পরে গাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে ৪২টি প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়।
বস্তাগুলো খোলার পর তার ভেতর থেকে অবৈধপথে আনা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় তৈরি ফুচকা বেরিয়ে আসে। এ সময় গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের কাছে এসব পণ্যের আমদানির বৈধ কাগজপত্র বা চালানপত্র দেখতে চাওয়া হলে তারা তা দেখাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়।
তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ গাড়িটিতে থাকা চার যুবককে গ্রেফতার করে।
অভিযানে পুলিশ ৪২টি প্লাস্টিকের বস্তা থেকে দুই হাজার একশো প্যাকেট ভারতীয় ফুচকা জব্দ করে, যার ওজন ২১০০ কেজি। পুলিশ জানিয়েছে, জব্দকৃত এই পরিমাণ ভারতীয় ফুচকার আনুমানিক বাজারমূল্য পাঁচ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এছাড়াও চোরাচালান পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত নীল রঙের টাটা এসি পিকআপটি জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা।
এ অভিযানের বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, “সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারতীয় এসব পণ্যগুলো আনা হয়েছিল। আমাদের নিয়মিত চেকপোস্ট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চোরাচালান চক্রটিকে মালামালসহ হাতেনাতে ধরা সম্ভব হয়েছে। অবৈধ চোরাচালানের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের নেত্রকোনা মডেল থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
You cannot copy content of this page