রমজানে দীর্ঘসময় না খেয়ে থাকার কারণে অনেকের গ্যাস্ট্রিক ও অ্যাসিডিটির সমস্যা বেড়ে যায়। চিকিৎসকেরা পরামর্শ দেন, ইফতারের পর অন্তত দেড় থেকে দুই লিটার পানি পান করা উচিত। এতে পানিশূন্যতা কমে এবং হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে। সম্ভব হলে ক্যাফেইনজাতীয় পানীয় যেমন চা ও কফি এড়িয়ে চলা ভালো। এগুলো ঘন ঘন প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে পানি বের করে দেয় এবং অ্যাসিডিটি বাড়াতে পারে।
সাহ্রির সময় ঘুম থেকে উঠেই কিছু পানি পান করা উপকারী। খাবার গ্রহণের এক ঘণ্টা আগে ও পরে পানি পান করলে গলায় জ্বালাপোড়া বা গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্সের ঝুঁকি কমে। ফজরের আজানের কিছুক্ষণ আগে সাহ্রি শেষ করা ভালো। তবে সাহ্রি খাওয়ার পর একবারে অতিরিক্ত পানি পান না করাই শ্রেয়।
ইফতারে ভাজাপোড়া খাবার যেমন বেগুনি বা পেঁয়াজু খেতে চাইলে এক–দুটির বেশি না খাওয়াই ভালো। ছোলা ভিজিয়ে কাঁচা বা সেদ্ধ করে খাওয়া যেতে পারে। খাবারের আইটেম কম রেখে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। ইফতারে মৌসুমি ফল, লেবু/আনারস/বেলের শরবত, ফল বা সবজির সালাদ রাখা যেতে পারে। দই-চিড়া ও ফল ইফতার ও সাহ্রি—উভয় সময়েই উপকারী।
ইউনিকো হসপিটাল-এর কনসালট্যান্ট ডা. রোজানা রউফ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, রাতের খাবার ও সাহ্রিতে তেল ও ঝাল কম ব্যবহার করা উচিত। অনেকেই রাতের খাবার বাদ দিতে চান, তবে এটি সবার জন্য উপযুক্ত নয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগী, যারা ইনসুলিন বা গ্লিক্লাজাইড/গ্লিমেপেরাইডজাতীয় ওষুধ সেবন করেন, তাদের জন্য ইফতার, রাতের খাবার কিংবা সাহ্রি—কোনোটিই বাদ দেওয়া যাবে না।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়