রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে বা অন্য কোনো কারণে পদটি শূন্য হলে নির্বাচন কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া শুরু করবে। সংবিধান অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। একই বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।
সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে জানা গেছে, চিকিৎসার জন্য বিদেশ সফরে থাকা জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ পূর্বনির্ধারিত সময়ের আগেই শুক্রবার (২৪ জুলাই) দেশে ফিরছেন।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন।
এ ছাড়া সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারণ করা যেতে পারে।
সংবিধানের ৫৩ অনুচ্ছেদে শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণেও রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের বিধান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেন জাতীয় সংসদের সদস্যরা। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন পরিচালনা করেন। প্রার্থী হতে হলে একজন সংসদ সদস্যের প্রস্তাব এবং আরেকজন সংসদ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে এবং তিনি আগে অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হয়ে থাকলে প্রার্থী হতে পারবেন না।
বর্তমানে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে আলোচনা চললেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে পদ শূন্য হলে সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
You cannot copy content of this page