ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-কে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানী তেহরান-এর গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে মানুষের ঢল নেমেছে। শনিবার (৪ জুলাই) ভোর থেকে শুরু হওয়া শোকানুষ্ঠান আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে।
শোকযাত্রার অংশ হিসেবে খামেনির মরদেহ ইরান ও ইরাকের কয়েকটি পবিত্র শহর প্রদক্ষিণ করবে। শেষ পর্যন্ত তাকে ইমাম রেজার মাজার-এ দাফন করা হবে।
শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই হাজারো মানুষ গ্র্যান্ড মোসাল্লায় জড়ো হতে শুরু করেন। শনিবার ভোর ৬টায় প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হলে শোকাহত সমর্থকদের ঢল নামে। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও শোকগাথার মধ্য দিয়ে পুরো এলাকা শোকাবহ পরিবেশে পরিণত হয়।
খামেনির কফিনের ওপর রাখা হয়েছে কালো পাগড়ি এবং ঐতিহ্যবাহী চেক স্কার্ফ, যা বিপ্লবী আদর্শ ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত। বৃহস্পতিবার রাতে প্রথমবারের মতো কফিন জনসাধারণের সামনে আনা হলে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। একই হামলায় নিহত তার পরিবারের সদস্যদের কফিনও পাশে রাখা হয়েছে।
এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ইরান সাম্প্রতিক সংঘাতের পর রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এক পর্যায়ে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই আয়োজনের মাধ্যমে দেশটির নেতৃত্ব জাতীয় ঐক্য ও রাষ্ট্রীয় অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হামলার পর থেকে জনসমক্ষে না আসায় তার নেতৃত্ব ও শারীরিক অবস্থা নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
শোকানুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানী তেহরানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। ইরান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শোকানুষ্ঠান চলাকালে যেকোনো ধরনের হামলার জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে।
শোক প্রকাশ করতে আসা ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মবিনা রাজাগি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করাই হবে নিহত নেতার প্রতি প্রকৃত সম্মান।
তেহরানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শোকযাত্রা কোম, নাজাফ এবং কারবালা হয়ে শেষ পর্যন্ত মাশহাদ-এ পৌঁছাবে, যেখানে ইমাম রেজার মাজারে তাকে সমাহিত করা হবে।
You cannot copy content of this page