উত্তরাঞ্চলের নৌ-যোগাযোগ উন্নয়ন, যাত্রীসেবা সম্প্রসারণ এবং নদীবন্দরভিত্তিক অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে যমুনা নদীর তীরে দুটি নতুন নদীবন্দর ঘোষণা করেছে সরকার। বগুড়ার সারিয়াকান্দি নদীবন্দর এবং বগুড়া-সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের ধুনট নদীবন্দরকে আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেটভুক্ত করা হয়েছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের টি শাখা থেকে বুধবার (৮ জুলাই) জারি করা পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পোর্ট অ্যাক্ট, ১৯০৮-এর ধারা ৪-এর উপধারা (১)-এর দফা (ক) এবং উপধারা (২)-এর ক্ষমতাবলে দুটি নদীবন্দরের সীমানা নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনের প্রয়োগ কার্যকর করা হয়েছে।
গেজেট অনুযায়ী, সারিয়াকান্দি নদীবন্দরের উত্তর সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে সারিয়াকান্দি উপজেলার কালিতলা ঘাটের উত্তরে হাটশেরপুর ইউনিয়নের দিঘাপাড়া ঘাট থেকে যমুনা নদীর পূর্ব তীরে কাজলা ইউনিয়নের জামথল ঘাট পর্যন্ত। দক্ষিণ সীমানা বিস্তৃত হয়েছে কর্ণিবাড়ি ইউনিয়নের মধুরাপাড়া ঘাট থেকে নদীর পূর্ব তীরে নারপালা মৌজার মূলবাড়ি পর্যন্ত।
অন্যদিকে, ধুনট নদীবন্দরের উত্তর সীমানা শুরু হয়েছে সারিয়াকান্দি উপজেলার কর্ণিবাড়ি ইউনিয়নের মধুরাপাড়া ঘাট এলাকা থেকে। দক্ষিণ সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার তেকুরিয়া হাটসংলগ্ন যমুনা নদী হয়ে বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভাতরবাড়ি ইউনিয়নের চৌবার মৌজার বেশাঘীর চর পর্যন্ত।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দুই নদীবন্দরের ক্ষেত্রেই নদীর পূর্ব ও পশ্চিম তীরে সাধারণ ভরাকালের সময় সর্বোচ্চ পানি সমতল থেকে স্থলভাগের দিকে ৫০ গজ পর্যন্ত এলাকা বন্দরের সীমানার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এ ছাড়া সারিয়াকান্দি নদীবন্দরের আওতায় দিঘাপাড়া, কালিতলা, মধুরাপাড়া, জামথল ও সোনাদগা ঘাটসহ সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান খাল ও ঘাটগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
একইভাবে ধুনট নদীবন্দরের আওতায় চন্দনবাইশা, শাহরাবাড়ি ঘাটসহ সংশ্লিষ্ট খাল ও ঘাটগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সহজ হওয়ার পাশাপাশি নদীকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
You cannot copy content of this page